যুদ্ধের ২৭তম দিনে ইরান আবারও স্পষ্ট করল ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র ভারতের জন্য খোলা হরমুজ় প্রণালী (Hormuz Opens For India)। বেশ কয়েকটি দেশের জাহাজকে হরমুজ় পার হতে না দেওয়া হলেও, গ্রিন করিডরের সুবিধা বেশ কয়েকটি দেশের জন্য রেখেছে ইরান। শুধু ভারত নয়, কোন কোন রাষ্ট্রকে এই সংঘাতের পরিস্থিতিতে বন্ধু বলে মনে করছে তেহরান তাও স্পষ্ট ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বিবৃতিতে। ইরানের এই ঘোষণায় স্বস্তি ভারতের জ্বালানি সেক্টরে।
ইরানের সরকারি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী মোটেই ‘বন্ধ নয়’—ভারত-সহ যে সব দেশকে ইরান ‘বন্ধু’ মনে করে, তাদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখনও খোলা রয়েছে। তবে এই চলাচল যে শর্তসাপেক্ষ, তাও স্পষ্ট করেছেন আরাঘচি।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার এক প্রতিবেদনে আরাঘচি বলেন, ‘পণ্যবোঝাই অনেক জাহাজের সুরক্ষিত চলাচলের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি রাষ্ট্রকে আমরা বন্ধু বলে মনে করি অথবা অন্য কোনও কারণে আমরা তাদের সেফ প্যাসেজ দিয়েছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ওই ভেসেলগুলিকে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’
ইরান প্রথমে যুদ্ধের মধ্যেই ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়। কূটনৈতিক স্তরে ভারতের সঙ্গে আলোচনার পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপদে পারাপারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। শুধু অনুমতি দেওয়াই নয়, বাস্তবে একাধিক ভারতীয় জাহাজ ইতিমধ্যেই হরমুজ় প্রণালী পার করেছে। এলপিজি বহনকারী একাধিক ভারতীয় ভেসেল নৌসেনার নিরাপত্তায় নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের সময়ে ২৮টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ়ের আশেপাশে আটকে ছিল। তাদের ধাপে ধাপে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
এর পরেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রকাশ্যে বলেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ নয়—ভারতের মতো ‘বন্ধু দেশ’-এর জন্য এটি খোলা রয়েছে, তবে শর্তসাপেক্ষে। যুদ্ধের মধ্যেও ভারতের জন্য হরমুজ় রুট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে চালু রাখা হয়েছে।
আরাঘচি জানিয়েছেন, ভারত, চিন, রাশিয়া, ইরাক, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলির জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই জাহাজগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন নয়’—এমন হিসেবে চিহ্নিত হতে হবে এবং ইরানের নির্ধারিত নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলতে হবে। যদিও বুধবারই একটি পাক ভেসেলকে হরমুজ় পার হতে অনুমতি দেয়নি ইরান। তেহরানের বার্তায় স্পষ্ট, কোনও জাহাজ যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকলাপে জড়িত থাকে বা নিরাপত্তা প্রোটোকল না মানে, তা হলে তাকে হরমুজ় প্রণালী ব্যহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এছাড়া, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আগাম যোগাযোগ (coordination) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে হরমুজ় প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই জলপথ বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতম প্রধান রুট হওয়ায়, এর ওপরে বাধা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে বড় প্রভাব পড়ে।