• ভোট এলে কেন কেন্দ্রের আমলাদের বদলি হয় না! প্রশ্ন হাইকোর্টে
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ভোট ঘোষণার পরে এ রাজ্যের আইএএস–আইপিএস বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন মামলাকারী। ভোট এলেই রাজ্যে এত আমলা বদলি হয়, কোনও দিন লোকসভা ভোটের আগে কেন্দ্রের কোনও মন্ত্রকের আমলাকে বদলি করা হয়?

    বুধবার হাইকোর্টে প্রশ্ন তুললেন মামলাকারী অর্ক নাগের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও কমিশনের আইনজীবীর ব্যাখ্যা, সংবিধান কমিশনকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, তার জোরেই এই বদলি করা হয়। এবং সাময়িক সময়ের এই বদলির কোনও ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই কমিশনের। কাল, শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি।

    পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণার পরপরই একের পর এক আমলা–পুলিশ অফিসারদের সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। শুরুটা হয়েছিল মুখ্যসচিব–স্বরাষ্ট্রসচিবকে িদয়ে। যা নিয়ে ক্ষোভ গোপন করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে আমলা বদলির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী অর্ক নাগ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। বুধবার ছিল মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি।

    মামলাকারীর তরফে যুক্তি, প্রতি ভোটেই রাজ্যের আমলাদের বদলি করে কমিশন। কিন্তু কোনও দিন লোকসভা ভোটের আগে কেন্দ্রের কোনও মন্ত্রকের সচিবকে বদলি করা হয় না। বাংলাতেই হয়। এখানেই কমিশনের অস্বচ্ছতা। মামলাকারীর আইনজীবী ব‍লেন, ‘ভোট ঘোষণা হলেও এখনও রাজ্যে একটা সরকার আছে। কিন্তু এই ভাবে ঢালাও বদলি করে কমিশন আসলে চাইছে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা কেড়ে নিতে। রাজ্যে যে সরকার আছে, তার অস্তিত্বই অস্বীকার করতে চাইছে কমিশন।’ কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর সওয়াল, ‘এত বদলি করছে কমিশন, কিন্তু রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা হচ্ছে না। অথচ আইন বলছে, রাজ্যের মতামত নিয়ে এই বদলি বা নতুন নিয়োগ করতে হবে।’

    পাল্টা কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, ‘কোনও রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই প্রতিদিনের প্রশাসনিক কার্য নির্বাহ করে কমিশন। এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব। নিরপেক্ষতার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান এতটাই প্রশ্নাতীত ভূমিকা নেন, যে বিচারপতিদের মতো তাঁকেও ইমপিচমেন্ট ছাড়া সরানো যায় না।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্যসচিবের ভূমিকা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট করানোর ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

    এ দিন কমিশন দাবি করে, এই ধরনের মামলায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মামলাকারীর ভূমিকা। তিনি ব্যক্তি স্বার্থে বা রাজনৈতিক স্বার্থে এমন মামলা করতে পারেন না। তাই এই মামলা খারিজ করা হোক। যদিও মামলাকারী দাবি করেন, এই মাম‍লা পুরোপুরি জনস্বার্থে। তাঁর হয়ে সওয়ালে কল্যাণের যুক্তি, ‘মামলাকারী পেশায় আইনজীবী। তিনি রাজ্য সরকারের প্যানেলভুক্ত। তাতে মামলা করায় কোনও বাধা নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)