• উপনির্বাচনে জিতেও লোকসভায় পিছিয়ে, ধূপগুড়ি পুনর্দখল কী ভাবে? বার্তা দিলেন অভিষেক
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি আসনটি জিতেছিল বিজেপি। ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে আসনটি নিজেদের দখলে আনে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রায় ৪ হাজার ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ছবিটা পাল্টে যায়। ৬,৩৭২ ভোটে লোকসভায় এই আসনে এগিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী জয়ন্তকুমার রায়। সেই অঙ্ক কি এ বার বিধানসভায় পাল্টাবে? বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ির ফণীর মাঠের জনসভায় দলীয় প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়ের প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি বাংলায় হেরে গিয়েছে বলে সাধারণ মানুষের টাকা আটকে রেখেছে, এই ধূপগুড়িতে যদি ফের বিজেপি জেতে, তা হলে আপনাদের বিজেপির সেই মডেলকে সমর্থন করতে হবে। আমরা যেখানে নির্বাচিত হয়েছি, সেখানেও কাজ করেছি। যেখানে নির্বাচিত হয়নি, সেখানেও কাজ করেছি। আগামী দিনে একই জিনিস করতে চাই।’

    জলপাইগুড়ি জেলায় সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ এবং মাল বিধানসভা কেন্দ্রে ২১-এর বিধানসভা ভোটে জেতে তৃণমূল কংগ্রেস। এ দিন ধূপগুড়ির প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়ের সমর্থনে সভা করেন অভিষেক। যদিও এই জেলার অন্যান্য প্রার্থীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন। এই কেন্দ্রের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে, বক্তব্যের শুরুতেই সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অভিষেক।

    ২৩-এর বিধানসভার উপ নির্বাচনে জয়ের আগে ধূপগুড়িতে আলাদা মহকুমা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অভিষেক। উপনির্বাচনে নির্মলচন্দ্র রায় জেতার কয়েকমাসের মধ্যেই নতুন মহকুমা গঠন করা হয়। তবে, এর কয়েকমাস পরেই লোকসভায় চিত্রটা বদলে যায়। অভিষেকের কথায়, ‘ভুল তথ্য প্রচারের জন্য এবং মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে লোকসভায় এই আসনে বিজেপির প্রার্থী জয়ন্তকুমার রায়কে ভোট দিয়েছিলেন।’ তবে এ বার আসনটি পুনরুদ্ধারের বার্তা শোনা যায় অভিষেকের বক্তব্যে।

    ধূপগুড়িতে কলেজ, বানারহাট ব্লকে হিন্দি কলেজ, কৃষক বাজার, নতুন দমকল কেন্দ্র এবং ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর মতো কাজ করেছে রাজ্য সরকার— এই কাজের খতিয়ান তুলে ধরেই ২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানোর আর্জি জানান অভিষেক। বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেকের বক্তব্য, ‘একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁদের প্রার্থীরা ভোট চাইতে আসবেন কীসের ভিত্তিতে?’ পাশাপাশি, SIR-এর জন্য মানুষের যে হয়রানি হয়েছে, সেটাও এই কেন্দ্রের ভোটচিত্র পাল্টে দিতে পারে বলে এ দিন ইঙ্গিত দেন অভিষেক।

  • Link to this news (এই সময়)