আশিস নন্দী, মধ্যমগ্রাম
সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে বারাসত থেকে আলাদা হয়ে ২০১১-য় জন্ম হয়েছিল মধ্যমগ্রাম বিধানসভার। কেন্দ্রের বয়স মাত্র ১৫ বছর। শুরু থেকেই শাসক দলের বিপরীতে একের পর এক প্রার্থী বদল হয়েছে। কিন্তু শাসক দলের মসৃণ পিচে গত তিন টার্মে তৃণমূলের পক্ষে একাই ব্যাট করে এসেছেন রথীন ঘোষ। এ বারেও এই কেন্দ্রে দল ভরসা রেখেছে রথীনের উপরেই। চতুর্থ বারে জয়ের মার্জিন বাড়ানোর টার্গেট নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রচারের আগে নিজের ঘর অক্ষত রাখতে এবং ভোটের রণকৌশল ঠিক করতে দলের কর্মীদের নিয়ে বৈঠকের উপরেই জোর দিচ্ছেন রথীন। তাঁর বিরুদ্ধে এ বার আইএসএফের প্রার্থী হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা বর্মন। প্রার্থী হওয়ার পরেই এ দিন বিকেলে মধ্যমগ্রামের দিকবেড়িয়া থেকে কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রচারে রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।
পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ড এবং পাঁচটি পঞ্চায়েত নিয়ে মধ্যমগ্রাম বিধানসভা। ২১-এর নির্বাচনে রথীন জিতেছিলেন ৪৮ হাজার ভোটে। এ বার ভোটের আগে সার-এর ফলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এই কেন্দ্র থেকে নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ৪৫৩৩। বিচারাধীন রয়েছে ২৩ হাজার। কেন্দ্রের পাঁচটি পঞ্চায়েত মিলিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার। ২০১১ সাল থেকে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন দুই টার্মে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী। নিজেও তিনি এই কেন্দ্রেরই ভূমিপুত্র। ফলে সারা বছর বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে পুরসভা থেকে পঞ্চায়েতের ভোটারদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগটা রেখে গিয়েছেন।
সম্প্রতি বারাসত-২ ব্লকের কেমিয়া খামারপাড়ার বাগবান্দা গ্রামীণ হাসপাতাল ৩০ বেডে উন্নীত হয়েছে। ধুঁকতে থাকা দুটি সরকারি বাংলা মাধ্যমের স্কুলকে সংযুক্ত করে একটি হাইস্কুলের মর্যাদা পাওয়াটাও রথীনের উদ্যোগে হয়েছে। পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নাইট সয়েলের আধুনিকরণ থেকে নোয়াই খালের উপর কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ করিয়ে রাজারহাটের সঙ্গে মধ্যমগ্রামের যোগাযোগ মসৃণ করার ক্ষেত্রেও রথীনের ভূমিকা রয়েছে। একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে দলীয় স্তরে সাংগঠনিক দক্ষতার উপরে ভর করে মধ্যমগ্রামে জয়ের ধারাকে শাসক দলের পক্ষে অব্যাহত রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
জোরকদমে প্রচারের আগে নিজের ঘর গোছাতেই এখন বেশি ব্যস্ত রথীন। প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই দু'বেলা পঞ্চায়েত এলাকায় ঘুরে কর্মীদের নিয়ে ভোটের রণকৌশল ঠিক করা, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একজোট হয়ে প্রচারমুখী করতেই বৈঠক করছেন রথীন।
জোট স্বার্থে মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রটিআইএসএফকে ছেড়েছে বামেরা। প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা বর্মনের বাড়ি রাজারহাট নিউ টাউনে। একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। বামেদের ঘর থেকেই প্রিয়াঙ্কার রাজনীতির শুরু। প্রথমে এসএফআই, পরে ডিওয়াইএফআইয়ের নেত্রী ছিলেন। পরে তিনি আইএসএফের ভসঙ্গে যুক্ত হন। বিধানসভার মতো বড় পরিসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এ বারেই প্রথম তাঁর। প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'রথীন ঘোষ আমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তাঁকে ত আমি শ্রদ্ধা করি। মধ্যমগ্রাম পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ করাটাই আমার লক্ষ্য।'
এই প্রসঙ্গে রথীন বলেন, 'বিরোধী প্রার্থী নিয়ে আমি ভাবছি না। কেন্দ্রের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন। রাজ্য সরকার ও পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজের বিচারেই তৃণমূল বড় ব্যবধানে জয়ী হবে এখানে।' সিপিএম নেতা সনৎ বিশ্বাস অবশ্য বলেন, 'মধ্যমগ্রামে গত পাঁচ বছরে পুকুর ভরাট থেকে মাটি পাচার ও সিন্ডিকেট ব্যবসার রমরমা হয়েছে। পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলার দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। শাসক দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়েই আমরা প্রচার চালাব।'