সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে এ বার মহার্ঘ ভাতা (DA) ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল নবান্ন। অর্থ দপ্তর অনেকের ক্ষেত্রে ‘এরিয়ার স্টেটমেন্ট’ জেনারেটও করে দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর অর্থ হলো, এ বার টাকা ট্রেজারি বা Pay and Accounts Office (PAO)-এ চলে যাবে। ফলে আশা করা যায়, খুব তাড়াতাড়ি সরকারি কর্মচারীরা প্রথম কিস্তির অর্থ পেয়ে যাবেন—সেটা জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে হোক বা সরাসরি অ্যাকাউন্টে। জানা গিয়েছে, সরকারি পোর্টালে সরকারি কর্মচারীরা নিজেদের বকেয়া DA-র হিসাব দেখতেও পাচ্ছেন। সেক্রেটারিয়েটের অনেক কর্মীই বুধবার বিকাল থেকেই তা দেখে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
যে দিন ভোট ঘোষণা হলো, সেই ১৫ মার্চ দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের সরকার তার সকল কর্মচারী ও পেনশনভোগী, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা ও অনুদান-প্রাপ্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রতি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। আমাদের অর্থ দপ্তর কর্তৃক জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে সকলেই তাঁদের ROPA 2009-এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA arrears) পেতে শুরু করবেন।’
এর পরেই রাজ্য সরকারের তরফে ১৬ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, প্রথম ধাপে ২০১৬–র জানুয়ারি থেকে ২০১৯-র ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই বকেয়া মেটানো হবে দু’কিস্তিতে। প্রথম কিস্তির টাকা মিলবে ৩১ মার্চের মধ্যে। পরের কিস্তির টাকা দেওয়া হবে সেপ্টেম্বরে। ২০১৬ আগের প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাড় করে সেই টাকাও মেটানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
https://www.wbifms.gov.in/—পোর্টালে গিয়ে ‘মাই ডকুমেন্ট’ অপশন থেকে ‘এরিয়ার স্টেটমেন্ট’ অপশন শো করলে সেখানে যেতে হবে। সেখানেই দেখতে পাবেন নিজের বকেয়া DA-এর পরিমাণ।
কর্মরত কোনও গ্রুপ–এ,বি,সি স্তরের অফিসার ও কর্মীরা হাতে ডিএ–র বকেয়া টাকা পাবেন না। তাঁদের টাকা জমা পড়বে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (GPF)। বকেয়া ডিএ–র টাকা অ্যাকাউন্টে যাবে গ্রুপ–ডি কর্মী ও পেনশন প্রাপকদের।
ইতিমধ্যেই একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করা হয়েছে। সেখানে কার কী করণীয় তা একদম স্পষ্ট করা হলো।