ফুন্টশলিং লাগোয়া ভুটান গেট চত্বরে থিকথিকে ভিড়। কোনও রাজনৈতিক সভার কারণে এই জনসমাগম শেষ কবে এই জায়গায় হয়েছিল, মনে করতে পারছিলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রচার গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বীরেন্দ্র ওঁরাওয়ের সমর্থনে প্রচার করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত, কোনও জায়গায় রাজনৈতিক সভা করলে সেই এলাকার মানুষের দাবির কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন অভিষেক। এ ক্ষেত্রে অন্যথা হলো না। দলীয় স্তরে তিনি ওই এলাকার মানুষের যে দাবির কথা শুনেছেন, সেটা বলেও দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের দাবি কী? আপনারা কী চান?’ সমস্বরে চিৎকারের মধ্যে থেকেই দাবিগুলি বেছে নিলেন অভিষেক। সভা শেষে আশ্বাসও দিলেন সেই দাবিপূরণের। ২১-এ এই আসন জিততে পারেনি তৃণমূল, এ বার জেতানোর দাবি রাখেন জনগণের কাছে।
অভিষেক আশ্বাস দেন, অচিরেই জেলার সীমান্ত শহর জয়গাঁকে পুরসভায় উন্নতি করা হবে। সঙ্গে জেলার অন্যতম চা বলয় কালচিনিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল তৈরি করারও আশ্বাস দেন তিনি। এদিন বিকেলে জয়গাঁর গোপীমোহন থেকে শুরু হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো। শেষ হয় ফুন্টশলিং লাগোয়া ভুটান গেট চত্বরে। সেখানেই একটি লরির হুডে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন তিনি। আলিপুরদুয়ারের পুরোনো তৃণমূল নেতা মৃদুল গোস্বামীকে প্রকাশ্যে ডেকে নেন নিজের পাশে। এছাড়াও কালচিনির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারিও দীর্ঘদিন পর ফিরে আসেন পুরোনো রাজনৈতিক দলে। মাঝে দলের সঙ্গে মতান্তরের কারনে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন উইলসন।
বক্তব্যের মাঝেই অভিষেক জানান, নানা জনজাতির আবাস শহর জয়গাঁ বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে শহর টিকে পুরভার মর্যাদা দিতে আমরা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তবে কিছু পাওয়ার বিনিময়ে তো কিছু দিতেও হয়। তাঁর কথায়, ‘আপনারা ৫ বছর পিছিয়ে গিয়েছেন। আর সে পথে না হেঁটে এবার জোড়াফুলের প্রার্থী বীরেন্দ্রকে জেতান। আমি কথা দিচ্ছি আমরাও আপনাদের দাবিকে মর্যাদা দেব। শুধু তাই নয়, কালচিনির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতালও তৈরি করা হবে।’
২০১১ ও ১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে জেতেন উইলসন চাপড়ামারি। একবার জিজেএমের সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে, পরের বার তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে। তবে ২০২১ সালে এই আসন ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেকের অভিযোগ, ‘বিজেপি আপনাদের জন্যে কী করেছে যে বার বার আপনারা ওদের কথায় ভুলে যান? এবার যে আপনারা ভুল করবেন না, তা আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিচ্ছে। আমি কথা দিচ্ছি আপনারা আমাদের কালচিনি উপহার দিন। বিনিময়ে আমরাও আপনাদের ঢেলে সাজাবো।’