যাদবপুরে রাম পুজো। বৃহস্পতিবার সকালে রামনবমী ঘিরে চলল স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এই রাম পুজোর আয়োজন করে ক্যাম্পাসে। যার বিরোধিতায় প্রথম থেকেই সরব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ঘেঁষা ছাত্র সংগঠনগুলি।
তাদের দাবি, বাইরে থেকে লোকজন এনে ক্যাম্পাসে পুজো করানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ABVP-র সদস্যদের বক্তব্য, ইফতারের সময়ে কোনও সমস্যা নেই, বামেদের সমস্যা হয় শুধু রাম পুজো ঘিরেই। এবিভিপি এ দিন স্লোগান দিতে থাকে, ‘এই মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই চাই, লড়াই চাই।’ ও দিকে আবার পাল্টা স্লোগান ওঠে, ‘যাদবপুরের লাল মাটিতে এবিভিপির ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই।’
বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের (RSF) তরফে অভিযোগ তোলা হয়, এখানে বাইরে থেকে এবিভিপির সদস্যরা এসে পুজোয় অংশ নিচ্ছেন। শিল্পা মণ্ডল নামে একজনের কথা বলেন তাঁরা—যিনি পশ্চিমবঙ্গ এবিভিপির সদস্য। যদিও শিল্পা মণ্ডলের দাবি, ‘ইফতার পার্টিতে বাইরে থেকে লোক আসে না? তখন তো কোনও কথা বলে না। রাম সবার, রাম বহিরাগত নয়।’
পাল্টা বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের (RSF) ইন্দ্রানুজ রায় বলেন, ‘এখানে শুধু ইফতার নয়, এখানে সরস্বতী পুজো, বিশ্বকর্মা পুজো সবই হয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও এতে অংশ নেয়। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে রামনবমীকে একটা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রামনবমীর মিছিলে কী হয়, তা-ও আমরা দেখি। তাই আমরা ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন হিসেবে এর বিরোধিতা করি। গতবারও বাইরে থেকে এসে উস্কানমূলক গান বাজিয়ে এখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, লিখিত ভাবে পুজোর আয়োজনের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে শান্তিপূর্ণ ভাবে পুজো করলে সমস্যা নেই। অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য মোতায়েন রয়েছে পুলিশও।
চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘যাঁরা পুজো করছেন, তাঁরা পুলিশের কাছে একটা সিকিউরিটির জন্য বলেছিল। অন্যদিকে আমরাও যাদবপুর পুলিশ স্টেশনকে অ্যালার্ট থাকতে বলেছি। আমরা কখনই চাই না ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢুকুক। তবে নির্দেশ দেওয়া আছে, আমি ওদের না বললে, ওরা ক্যাম্পাসে ঢুকবে না। ভিতরে আমাদের সিকিউরিটি আছে।’