• ভোট এলেই প্রার্থীদের মনে পড়ে রেল উড়ালপুলের কথা, ক্ষোভ এলাকার বাসিন্দাদের
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া

    ভোট এলেই উড়ালপুল নিয়ে মানুষের 'পাশে' চলে আসেন তাঁরা। ভোট মিটলেই আবার এত কাজের চাপ যে 'পাশে' থাকার কথা ভুলেই যান। 'বড়' 'বড়' বিষয় নিয়ে ভাবতে গিয়ে যদি এ সব মনে না থাকে, কী করা যাবে! পাঁশকুড়া পুর এলাকার বাসিন্দারা তাই এটাকেই ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছেন।

    তবু মন কখনও কখনও বিদ্রোহ করে। দিনের পর দিন ভোগান্তি সইতে সইতে বেরিয়ে আসে ক্ষোভ-যন্ত্রণা। আঙুল ওঠে রাজনীতির কারবারীদের দিকে। কারণ এঁদের কথার মোহে পড়েই তো এই অবস্থা।

    পুর এলাকা হলেও বেহাল পথঘাট। যাতায়াতের পথে লেভেল ক্রসিংয়ে থমকে যায় গতি। অভিযোগ, দু' দশকের বেশি সময় ধরে পুর এলাকার তেমন কোনও উন্নয়নই হয়নি। বেহাল পথঘাট আরও বেহাল হয়েছে। লেভেল ক্রসিংয়ের সমস্যা যেন সমাধানের পথে এগোতেই ভুলে গিয়েছে। অথচ প্রতি ভোটেই এই লেভেল ক্রসিংয়ে ভর করেই দোরে দোরে ভোট চেয়ে বেড়ান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এ বারও তার অন্যথা হয়নি।

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত। পাঁশকুড়া ব্লকের ১৪টি পঞ্চায়েত ও পাঁশকুড়া পুর এলাকা নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা। দু'দশকেরও বেশি সময় হলো, পুরসভার তকমা গায়ে লেগেছে। অথচ নগরায়নের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পাঁশকুড়া পুর এলাকা। রুগ্ন পথঘাটের পাশাপাশি পাঁশকুড়ার গতি আটকেছে শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া রেল লাইনের লেভেল ক্রসিং। একবার যা পড়লে প্রমাদ গোনে যানবাহন থেকে পথচারীরা। ভোগান্তি থেকে বাঁচতে উড়ালপুল চেয়েছিলেন এখানকার মানুষ। বছরের পর বছর কাটলেও উড়ালপুল তো মেলেইনি। উল্টে তা প্রচারের হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের। অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

    দক্ষিণ-পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন পাঁশকুড়া। দিনে গড়ে চারশোরও বেশি ট্রেন চলাচল করে এই স্টেশনের উপর দিয়ে। স্টেশন লাগোয়া লেভেল ক্রসিংয়ের একদিকে পাঁশকুড়া বনমালী কলেজ, মাদ্রাসা স্কুল, একাধিক বেসরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক। অন্যদিকে পাঁশকুড়া সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড, পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার-সহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান। দিনের অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট। একবার গেট পড়লে তা উঠতে ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী দেব এবং বিজেপির তারকা প্রার্থী হিরণ উড়ালপুল তৈরি নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি শুনিয়েছিলেন বলে জানালেন বাসিন্দারা। ওই পর্যন্তই। এ বারও পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সিরাজ খানের প্রচারে উড়ালপুল।

    যদিও সিরাজের দাবি, 'ভোটে জিতলে পাঁশকুড়ায় অনেক উন্নয়ন করব। তার মধ্যে একটি হলো ফ্লাইওভার তৈরি। কথা দিচ্ছি ভোটে জিতেল ফ্লাইওভার তৈরি করে দেখাব।' কটাক্ষ করে পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি বলেন, 'তৃণমূল ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও ফ্লাইওভার তৈরি হলো না কেন? রেল ফ্লাইওভার তৈরির জন্য প্রস্তুত। রাজ্য সরকার জায়গা দিচ্ছে না। ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে আমরাই পাঁশকুড়ায় ফ্লাইওভার তৈরি করব।'

    পাঁশকুড়া শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কনকপুরের বাসিন্দা শিক্ষক আলোক মাইতি বলেন, 'আর প্রতিশ্রুতি চাই না। চাই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। তা সেই ওষুধ যে সরকারের হাত দিয়েই আসুক না কেন'।

  • Link to this news (এই সময়)