আচমকা ঝড়বৃষ্টির জেরে কলকাতার আকাশে প্রায় সওয়া এক ঘণ্টা চক্কর কাটতে হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানটিকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা বিমানবন্দর ও লাগোয়া এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানকে আকাশে অপেক্ষা বা ‘হোল্ড’ করতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত দুর্যোগ কাটার পরে বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান ফ্যালকন–২০০০ কলকাতায় ল্যান্ড করে।
বৃহস্পতিবার বীরভূমের দুবরাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা সেরে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। ১২ আসনের বিজ়নেস জেট অন্ডাল থেকে বিকেল ৩টে ৩৯ মিনিটে টেক–অফ করে। কলকাতায় নামার কথা ছিল বিকেল ৪টে ৭ মিনিট নাগাদ। তার ঠিক ৪টে ২ মিনিটে কলকাতার আকাশে চলে আসে বিমানটি। ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, ঝড়ের মুখেই ৪টে ২২ মিনিটে কলকাতায় নেমে আসে ইন্ডিগোর ভুবনেশ্বর ফ্লাইট। তারপরে একটি বিমান ছাড়ার কথা ছিল। সেটি আটকে দেওয়া হয়। বিকেল ৪টে ২২ মিনিট থেকে ৫টা ২ মিনিট পর্যন্ত কার্যত বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা বিমানবন্দর।
৪টে ২২ মিনিট পর্যন্ত বিমান ওঠানামা করেছে, তা হলে ৪টে ২ মিনিটে কলকাতার আকাশে চলে আসা মমতার বিমানকে কেন নামতে দেওয়া হলো না? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বিমান ওঠানামা করতে অসুবিধে হয় না। কিন্তু, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বা শিলাবৃষ্টি হলে বিমান ল্যান্ড করাতে ঝুঁকি হয়ে যায়। বিশেষ করে মমতার যে বিমান ছিল, অর্থাৎ ফ্যালকনের মতো ছোট বিমানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি বেশি। ডিজিসিএ–এর যুক্তি, তুলনায় ছোট বিমান, বিশেষত যেখানে ভিআইপি থাকেন, তার ক্ষেত্রে অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আকাশ পরিষ্কার হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানকেই প্রাইওরিটি দিয়ে সবার আগে নামিয়ে আনা হয়েছে। আবহাওয়া যে খারাপ থাকতে পারে, সেটি অন্ডাল থেকে টেক–অফ করার আগেই পাইলটের জানার কথা ছিল বলে ডিজিসিএ–র একটি সূত্র জানিয়েছে।
কলকাতার মাথায় আসার পরে মমতার বিমানের পাইলটের সঙ্গে কলকাতার এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) অফিসারদের কথা হয়। তাঁকে ‘হোল্ড’ করতে বলা হয়। ‘হোল্ড’ অর্থে এই সময়ে বিমানকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় একটি এলাকা জুড়ে চক্কর কাটতে হয়। এটিসি–র ফাইনাল ক্লিয়ারেন্স পেলে বিমান নেমে আসে রানওয়েতে। হোল্ড করতে বলার পরে, এ দিন কলকাতার দক্ষিণ আকাশে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে চক্কর কাটতে থাকে বিমানটি। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, ভিআইপি বিমানের পাইলটকে এটিসি জানায়, তিনি চাইলে অন্ডাল ফিরে যেতে পারেন নয়তো ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে যেতে পারেন। কিন্তু, পাইলট ‘হোল্ড’ করবেন বলে জানান।
এ দিন শুধু মুখ্যমন্ত্রীর বিমান নয়, যাত্রীদের নিয়ে চেন্নাই থেকে আসা স্পাইসজেট, হায়দরাবাদ ও রাঁচি থেকে আসা ইন্ডিগোর ফ্লাইটও আকাশে চক্কর কাটে। কিছুক্ষণ চক্কর কেটে স্পাইসের ফ্লাইট বারাণসী চলে যায়। ইন্ডিগোর দু’টি ফ্লাইট নেমে আসে কলকাতায়।