• 'একসঙ্গে চলার শপথ' বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের
    আজকাল | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ জেলায় 'একসঙ্গে চলার শপথ' নিলেন বিজেপি বিরোধী বাম- কংগ্রেস এবং রাজ্যের শাসক দল, তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।

    শুনতে অবাক লাগলেও রাজ্যের অসংখ্য মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য এমনই এক অভিনব পদক্ষেপ বৃহস্পতিবার গ্রহণ করলেন বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। 

    এই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের সুতি-২ ব্লকে নির্বাচন কমিশনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকও বয়কট করলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের অভিযোগ, সুতি বিধানসভা এলাকায় বেছে বেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    সমস্ত বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় না ওঠা পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনও রকম সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি- বিডিও এবং এআরও-কে জানিয়ে দিয়েছেন বলেও তাঁদের দাবি। 

    প্রসঙ্গত ,গত ২৮  ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬১৬ জন ভোটারের নাম 'বিচারাধীন' তালিকায় ছিল।

    পরবর্তীকালে যে 'সাপ্লিমেন্টারি' তালিকা প্রকাশ হয়েছে তাতেও দেখা যাচ্ছে সুতি বিধানসভা এলাকার বেশিরভাগ ভোটারের নাম হয় 'বিচারাধীন' থেকে গিয়েছে অথবা তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। 

    বৃহস্পতিবার সুতি ২ ব্লক অফিসে নির্বাচন কমিশনের  প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং প্রচুর বৈধ ভোটারের নাম 'বিচারাধীন' তালিকায় থেকে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বৈঠকে উপস্থিত সিপিএম নেতা জুলফিকার আলি, তৃণমূল নেতা ইউসুফ আলি, মাসুদ রানা, আরএসপি নেতা নিজামুদ্দিন আহমেদ-সহ বৈঠকে উপস্থিত আরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। 

    বৈঠকে  বিজেপির তরফ থেকে কৌশিক দাস উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কোনও সমালোচনা করেননি। 

    সর্বদলীয় বৈঠক উপস্থিত বাম নেতৃত্ব বলেন," সমস্ত বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় না উঠলে ভোট বন্ধ থাকা উচিত। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি জোর করে ভোট করতে চায় তাহলে এখানে আমরা রাজনৈতিক দলগুলো কোনও ধরনের সহযোগিতা করব না।"

    তাঁরা আরও বলেন,"সর্বদলীয় বৈঠকে আমরা বিডিও এবং এআরও-কে জানিয়ে দিয়েছি আগে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় উঠুক তারপরে ভোট হোক। না হলে আমরা এই ভোট বয়কট করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।"

    সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বলেন , নির্বাচনী প্রচারে তাঁরা যখন পাড়ায় যাচ্ছেন তখন সাধারণ মানুষ তাঁদের  কাছেই ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণ জানতে চাইছেন অথচ কারও কাছে এর সদুত্তর নেই।

    এবার নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে বিডিও -এআরও-রা গিয়ে পাড়ায় পাড়ায় মানুষকে জবাব দিয়ে আসুক কেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অথচ অন্যদের বৈধ নথি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভোটার তালিকায় নাম উঠে গিয়েছে। 

    এদিনের বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বলেন, গত প্রায় ৪ মাস ধরে রাজ্যজুড়ে এসআইআর পর্ব চলছে। অথচ এখনও  লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় ওঠেনি।

    বৈধ ভোটারদের বাদ রেখে 'ভোট উৎসব ২০২৬' হতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার জন্য প্রচুর মানুষের নাম এখনও তালিকায় নেই।  এখন তাঁদেরকে বলা হচ্ছে 'ট্রাইব্যুনালে' যাওয়ার জন্য। কিন্তু ট্রাইবুনালে 'অপরাধী'দের বিচার হয়। 

    কোনও বৈধ ভোটার যদি ট্রাইবুনালে যায় সে কত দিনের মধ্যে বিচার পাবে ,রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আদৌ সে ভোট দিতে পারবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনও অস্তিত্ব নেই। একটি  বিশেষ রাজনৈতিক দল যা নির্দেশ দিচ্ছে তারা সেভাবেই চলছে। বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য,এই ভোট মানুষকে বাদ দিয়ে করার চেষ্টা চলছে। তাই আমরা সকলে একমত হয়েছি আগে মানুষের স্বার্থ, তারপর ভোট। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা গিয়ে মানুষের মুখোমুখি হোক এবং জবাব দিক কেন বৈধ ভোটাদের নাম  তালিকায় নেই।
  • Link to this news (আজকাল)