• ভোটের আগেই ক্রমশ ব্যাকফুটে বিজেপি?
    আজকাল | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই কি চাপ বাড়ছে ভারতীয় জনতা পার্টির ওপর? সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম বারবার সেই প্রশ্নই তুলে দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

    রাজ্য বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা নির্বাচনী প্রচারে মন দেবেন নাকি আগে কর্মীদের সন্তুষ্ট করবেন তাই বুঝতে পারছেন না। এখনও পর্যন্ত তিন দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেও ২৯৪টি আসনের সবকটি পূর্ণ করা যায়নি।

    এর মধ্যেই কিন্তু কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন দলীয় কর্মীরাই। একাধিক জায়গায় পার্টি অফিস ভাঙচুর, বিক্ষোভ, পথ অবরোধ থেকে শুরু করে তালা ঝোলানোর ঘটনাও ঘটেছে একের পর এক।

    পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি দপ্তরেও ক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেও লাভ হয়নি।

    এমনকী, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন কলকাতায় থাকাকালীনও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। প্রার্থী বাছাই নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বেলেঘাটা থেকে গোসাবা, রানাঘাট থেকে ময়নাগুড়ি একাধিক কেন্দ্রে প্রকাশ্য বিদ্রোহ দেখা যাচ্ছে।

    এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে কটাক্ষ করা হচ্ছে, বাংলায় বিজেপির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মমতা ব্যানার্জি বা তৃণমূল নয়, বরং বিজেপি নিজেই। তিন দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের তালিকাটা অনেকটা এরকম:

    •    সন্দেশখালিতে বিজেপি প্রার্থী বদলের দাবিতে পোস্টার, উদয়ননারায়ণপুরে বিক্ষোভ•    হুগলির কর্মীরা বালাগড় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সল্টলেক অফিসে প্রতিবাদ•    সল্টলেক দপ্তরে বিক্ষোভ, বিরোধী দলনেতার উপস্থিতিতেই প্রার্থী বদলের দাবি•    কুলপি, হাওড়া, উদয়নারায়ণপুর, পলাশিপাড়া, হাবড়া—বিভিন্ন জায়গায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে•    হিঙ্গলগঞ্জ ছাড়াও জলঙ্গি, চাপড়া, শ্রীরামপুরে প্রার্থী বদলের দাবিতে আন্দোলন•    রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও সমাধান হয়নি•    ময়নায় প্রার্থী অশোক দিন্দার বিরুদ্ধে নিজের দলের কর্মীদেরই বিক্ষোভ•    পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে সৌমেন খারফাকে ঘিরে অসন্তোষ•    কালনায় সিদ্ধার্থ মজুমদারকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান•    বেলেঘাটা প্রার্থী নিয়েও ক্ষোভ, পরিবর্তনের দাবি•    শ্রীরামপুর, বজবজ, জয়নগরে বিক্ষোভ; নারায়ণগড় ও কালনায় দলীয় অফিসে ভাঙচুর

    এছাড়া, একাধিক জায়গায় অভিযোগ উঠেছে টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু আসনেও অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে।

    অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারের টিকিট পাওয়া নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। যদিও রিঙ্কু স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিলীপ ঘোষের স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মী হিসেবেই টিকিট দাবি করছেন।
  • Link to this news (আজকাল)