• ভোটের আগে ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা, কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে বা বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করে যখন তৃণমূল কংগ্রেসকে আটকানো যাচ্ছে না, তখন ইভিএম হ্যাক করার চেষ্টা চলছে।’ তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, তাদের পক্ষে পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় এখন অন্য পথে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। সায়নীর দাবি, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

    এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, ‘কমিশন কার্যত বিজেপির হয়ে কাজ করছে। রাজ্যে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরানো হয়েছে। রাতারাতি রাজ্যের পুলিশ প্রধান ও অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে, যার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট।’

    ব্রাত্য বসুর আরও অভিযোগ, রাজ্যে বাইরে থেকে যে পর্যবেক্ষকদের আনা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিতর্কিত বা বিজেপি ঘনিষ্ঠ। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর মতে, ‘এইভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতির জাল বোনা হচ্ছে নির্বাচনের নামে।’

    তৃণমূল নেতৃত্বের এই অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধীদের তরফে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না এলেও, ভোটের আগে এই ইভিএম ইস্যু যে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করবে, তা বলাই যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট প্রক্রিয়ার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ধরনের অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)