• ‘কর্পূর’ ছবিটি বেশ আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়
    এই সময় | ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ‘কর্পূর’ মূলত একটি রাজনৈতিক থ্রিলার, যার ভিত তৈরি হয়েছে বাস্তব এক অন্তর্ধান রহস্যকে কেন্দ্র করে। ছবির শুরুতেই ঝড়বৃষ্টির রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক মৌসুমি সেনের রহস্যজনক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা দর্শককে গল্পের মধ্যে টেনে নেয়।

    সেই অন্তর্ধান ঘিরেই এগোয় ছবির কাহিনি— অতীত ও বর্তমান, রাজনীতি, দুর্নীতি, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত মানসিক টানাপড়েন মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ছবির জগৎ। ছবির গল্পে দু’টি সময়কাল পাশাপাশি এগিয়েছে— নব্বইয়ের দশকের শেষ সময় এবং বর্তমান সময়। পুরোনো একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া কেস নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করে দুই তরুণ সাংবাদিক। তাদের তদন্ত এগোতে থাকলে ধীরে-ধীরে সামনে আসে শিক্ষা দুর্নীতি, রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জট এবং এক মহিলার ক্ষমতার খুব কাছে পৌঁছে যাওয়ার গল্প।

    মৌসুমি সেনের চরিত্রে রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ক্ষমতার কাছে পৌঁছে যাওয়া, ভুল সিদ্ধান্ত, অপরাধবোধ, মানসিক ভাঙন— এই সব আবেগ তিনি খুব সংযত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর অভিনয়ে অতিরঞ্জন নেই, কিন্তু দৃশ্যের আবেগ খুব স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে। ছবিতে রাজনৈতিক চরিত্রগুলিও গুরুত্বপূর্ণ। অবসরপ্রাপ্ত এক গোয়েন্দা চরিত্রও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথমার্ধে ছবির গল্পের ভিত তৈরি করতে গিয়ে সংলাপ একটু বেশি হয়ে গিয়েছে এবং গতি কিছুটা মন্থর লাগে।

    তবে দ্বিতীয়ার্ধে গল্প অনেক বেশি গতিশীল হয় এবং রহস্য, খুন, রাজনৈতিক চক্রান্ত— সব মিলিয়ে ছবির টান বাড়ে। শেষের দিকে কয়েকটি ট্যুইস্ট রয়েছে। ক্যামেরার কাজ ও আবহসঙ্গীত ছবির মুড তৈরি করতে সাহায্য করেছে। সব মিলিয়ে ছবিটি আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা দেয়। কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও বিষয়বস্তু ও অভিনয়ের জন্য ছবিটি দেখার মতো।
  • Link to this news (এই সময়)