• পরিচয় সামনে রেখেই ভোটের প্রচার করতে পারবেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা
    এই সময় | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • অভয়ার মা-কে বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তারপরেই অভয়ার মা ও বাবার পরিচয় প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা এবং নিহত চিকিৎসকের মা হিসেবে তাঁর পরিচয় দেওয়া যাবে কি না, তাঁর নাম-ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করা যাবে কি না, এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে নানা মহলে। এ বার পরিচয় প্রকাশ্যে আনার জন্য মিলল আদালতের অনুমতি। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন যে, তাঁরা নিজেদের পরিচয় সামনে আনার জন্য আগে দু’বার হলফনামা জমা দিলেও আদালত তা খারিজ করেছিল। ফের আবেদন করা হয়েছিল। এ বার শিয়ালদহ আদালত অনুমতি দিয়েছে।

    বিজেপির মুখপাত্র ও আইনজীবী দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য, ‘নির্যাতিতার পরিবার যদি নিজে থেকে পরিচয় প্রকাশ করতে চায়, ভোটে দাঁড়িয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চায়, তাতে আইন কোনও বাধা হতে পারে না।’ এই ব্যাপারে অভিজ্ঞ আইনজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে বলেও বক্তব্য বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের।

    যদিও এখনও আলোচনা বন্ধ হয়নি। কারণ পরিচয় প্রকাশ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। দিল্লিতে ২০১২–তে নির্ভয়া কাণ্ডের পরে নির্যাতিতার পরিচয় গোপন করা নিয়ে ২০১৮–তে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সে সময়ে স্পষ্ট রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ওই মামলা করেছিলেন আইনজীবী নিপুণ সাক্সেনা। তাঁর বক্তব্য, ‘আরজি করের চিকিৎসক যেহেতু সাবালিকা ছিলেন এবং তিনি মারা গিয়েছেন, তাই তাঁর পরিবার নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাইলে, যে ট্রায়াল কোর্টে ওই মামলা এতদিন চলছে বা চলছিল, সেই আদালতের কাছে আবেদন করে এ ব্যাপারে অনুমতি নিতে হবে।’ তবে পরিচয় প্রকাশে কোনও বাধা নেই বলেও মত তাঁর

    কলকাতা হাইকোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী মিলন মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘সুপ্রিম কোর্টের যা রায়, তাতে এ ক্ষেত্রে পরিচয় প্রকাশে আইনি কোনও বাধা নেই ঠিকই। কিন্তু নির্যাতিতা মেয়ের যেহেতু মৃত্যু হয়েছে, আর মাকে ভোট চাইতে হলে, মেয়ের কথা উল্লেখ করতে হবে, তাই নৈতিকভাবে এই পরিচয় প্রকাশ কতটা ঠিক, তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে।’

    কলকাতা হাইকোর্টের তরুণ আইনজীবী সৌম্যজিৎ দাস মহাপাত্রের ব্যাখ্যা, ‘নির্যাতিতা সাবালিকা ছিলেন। সেক্ষেত্রে মেয়ের পরিবার যদি নিজেরা চান, তাহলে তাঁদের পরিচয় গোপন করার কোনও কারণ নেই। নির্যাতিতা নিজে কোনও অপরাধ করেননি।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘তাঁর মা নিজেও ভোটে দাঁড়ানোর পিছনে সঠিক বিচার না পাওয়ার কথা বলেছেন। ফলে তাঁর সেই বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। মিডিয়া কভারেজের ক্ষেত্রেও কোনও সমস্যা নেই।’ আবার ফৌজদারি কার্যবিধির সংজ্ঞা অনুযায়ী, নির্যাতিতার মা নিজেও একজন নির্যাতিতা। তাই তিনি চাইলে পরিচয় গোপন নিষ্প্রয়োজন।

    পরিচয় প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নির্যাতিতার বাবা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে আসতে চাই। আমার মেয়ের এই নৃশংস খুনে যারা দোষী, সকলে তো প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমরাও প্রকাশ্য এসে লড়াই করতে চেয়েছিলাম। এ বার সেটা করবো।’

  • Link to this news (এই সময়)