• জিটিএ নিয়ে লোকসভায় বিভ্রান্তিকর তথ্য, ইন্টারলোকিউটার ইস্যুতে সরব বিজিপিএম
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • বিজিপিএমের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘পাহাড়ের প্রশাসনিক কাঠামোর অন্যতম স্তম্ভ গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-কে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। লোকসভায় যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর। হয় মিথ্যা বলা হচ্ছে, না হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নয়।’

    প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ লোকসভায় এই ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই দাবি করেন, জিটিএ বোর্ডে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় ইন্টারলোকিউটারকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হয়েছে এবং ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। কিন্তু সেই বক্তব্যকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে বিজিপিএম। শক্তিপ্রসাদ শর্মার দাবি, ‘২০২২ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে জিটিএ বোর্ড গঠিত হয়েছে। ৪৫ জন সদস্য নিয়ে একটি সাংবিধানিক স্বীকৃতিসম্পন্ন বোর্ড কাজ করছে। তা সত্ত্বেও কেন্দ্র বলছে, কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই— এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।’

    দলের অভিযোগ, পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রে ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় জিটিএ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও তাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানের কথাও তুলে ধরে তারা জানায়, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জিটিএ-কে প্রাধান্য দেন, যা কেন্দ্রের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার পালটা সুর চড়ান। তাঁর বক্তব্য, ‘পাহাড়ে যদি সঠিকভাবে প্রশাসন চলত, তাহলে আমাকে রাজনীতিতে আসতে হতো না। সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যেই ইন্টারলোকিউটার নিয়োগ করা হয়েছে। এখন আপত্তি কেন?’ তিনি আরও দাবি করেন, পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান বিজেপিই করবে।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পাহাড়ের অচলাবস্থা কাটাতে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ কুমার সিংকে ইন্টারলোকিউটার হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তিনি সম্প্রতি দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পংয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে অভিযোগ, সেই বৈঠকে বিজিপিএম বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধিকে ডাকা হয়নি।

    সব মিলিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য ও পাহাড়ের স্থানীয় শক্তির টানাপোড়েনে আবারও সামনে এসেছে পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্ন। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ইস্যু যে আরও জোরালো হবে, তা বলাই যায়।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)