• মহার্ঘ কাঁচামাল, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ওষুধেরও দামবৃদ্ধির শঙ্কা
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশকে শুধু জ্বালানি সংকটে ফেলেনি, ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির পথও প্রশস্ত করেছে। হরমুজ প্রণালী হয়েই ভারতে আসে অধিকাংশ ওষুধের কাঁচামাল। যুদ্ধ শুরুর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সরবরাহ শৃঙ্খল টালমাটাল হয়ে পড়েছে। কাঁচামালের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতে ওষুধের দাম বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি দিয়েছে উৎপাদক সংস্থাগুলি। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকলে দেশে ওষুধের সংকট দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    দেশে সবচেয়ে বেশি ওষুধ উৎপাদন হয়ে থাকে হিমাচল প্রদেশে। হিমালয়ের কোলের এই রাজ্যে রয়েছে প্রায় ৬৫০টি কারখানা। দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ ওষুধ সেখানেই উৎপাদন হয়। কাঁচামালের সংকট দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রের কাছে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে হিমাচল ড্রাগ ম্যানুফাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচডিএমএ)। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ চালুর আরজিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র সঞ্জয় শর্মা বলেন, অন্তত ৪০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি কমেছে। আর কাঁচামালের দাম বেড়েছে প্রায় ১৫০-২০০ শতাংশ। ইতিমধ্যে প্রতি কেজি প্যারাসিটামলের দাম ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকা হয়েছে। উপায়ান্তর না থাকায় চড়া দামেই তা কিনতে বাধ্য হচ্ছে উৎপাদক সংস্থাগুলি। পাশাপাশি বাড়তে চলেছে চিকিৎসা সরঞ্জামের মূল্যও। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালী হয়ে কাঁচামালের পাশাপাশি অ্যাকটিভ ইনগ্রিডিয়েন্স, বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক, ইন্টারমিডিয়েট কেমিকেল ইত্যাদি আসে। এগুলির অভাবে সিরিঞ্জ, গ্লাভস, ক্যাথিটারের উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। কনসালটেন্ট আইভিএফ বিশেষজ্ঞ রোহন পালশেটকর বলেন, ‘এখনও দৈনন্দিন পরিষেবায় বিশেষ প্রভাব পড়েনি। কারণ পণ্য মজুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে রোগীদের উপর চাপ পড়বে।’ অর্থাৎ, বিল বাড়বে হাসপাতালেরও।  
  • Link to this news (বর্তমান)