৬০ দিন চলার মতো তেল রয়েছে, জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ খারিজ কেন্দ্রের
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ৬০ দিনের তেল এবং ৩০ দিন চলার মতো অতিরিক্ত রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। সুতরাং উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। এতদিন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলার পর বৃহস্পতিবার কেন্দ্র হঠাৎ সব জল্পনা উড়িয়ে দিল। বলা হয়েছে, ভারত জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী। সব দেশের মধ্যে ভারতই সবথেকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে দুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী কয়েক দফায় কেন বললেন যে, করোনাকালের মতো সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।
সম্প্রতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী লোকসভা ও রাজ্যসভা-সংসদের দুই কক্ষেই বলেছেন, পরিস্থিতি চিন্তাজনক। তিনি দেশবাসীর কাছে করোনাকালের মতো সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার আবেদন করেন। এভাবে বারংবার সংযম ও ধৈর্য ধরে একজোট হয়ে সমস্যা মোকাবিলার বার্তা দেন তিনি। এর থেকে জল্পনা শুরু হয়, তাহলে কি আবার কোনও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে? এমনকী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের প্রচারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, কে জানে শোনা যাচ্ছে আবার নাকি লকডাউনও করে দিতে পারে। এরা শুধু নোটবন্দী-ভোটবন্দী এসবই পারে। আদৌ সরকারি তেলসংস্থাগুলির কাছে কত পরিমাণ এবং কতদিনের তেল মজুত আছে, সেটা নিয়েও জল্পনা ও চর্চা বাড়ে। এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার হঠাৎ কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক দ্বিধা ও এতদিনের সতর্ক অবস্থান ঝেড়ে ফেলে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান ঘোষণা করেছে। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী যেখানে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেছেন, সেখানে এদিন পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রচুর মিথ্যা প্রচার চলছে বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, দেশে সামান্যতম জ্বালানি সংকট নেই। বৃহস্পতিবার মন্ত্রক বলেছে, দেশবাসী নিশ্চিন্তে থাকতে পারে। সরকারের কাছে ২ মাসের অশোধিত তেল মজুত রয়েছে। রান্নার গ্যাসের রিজার্ভ আছে এক মাসের। পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে সাধারণ সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। মন্ত্রকের আশ্বাস, রান্নার গ্যাস নিয়ে এত হাহাকার ও গুজবের কোনও সারবত্তাই নেই। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৮ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি কার্গো জাহাজ ভারতে আসছে। কয়েকদিনেই পৌঁছে যাবে। সুতরাং রিজার্ভ আরও বাড়বে। তাহলে পেট্রল পাম্পগুলিতে প্রবল ভিড় কেন? পেট্রলিয়াম মন্ত্রক বলেছে, এই প্রবণতা পরিকল্পিত গুজব ছাড়া অন্য কিছু নয়। কারণ দেশে ১ লক্ষাধিক পেট্রল পাম্পের আউটলেটের একটিতেও তেলের কোনও অভাব নেই। মন্ত্রক বলেছে, এই প্রবল টালমাটাল পরিস্থিতিতেও আমাদের কোনও সংকট নেই। ভারত দামও বাড়ায়নি পেট্রল ডিজেলের। জ্বালানি নিরাপত্তার ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে ভারত।