• জ্বালানিতে শুল্ক প্রত্যাহার চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি বিমান সংস্থাগুলির
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে দাম বেড়েছে বিমানের জ্বালানির। এরমধ্যে সুরাহা চেয়ে কেন্দ্রের দ্বারস্থ  বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলি। অসামরিক পরিবহণ মন্ত্রকের কাছে পাঠানো চিঠিতে তাদের আবেদন, এয়ার টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) উপর ধার্য রাজ্যের ভ্যাট এবং কেন্দ্রের এক্সাইজ ডিউটি আপাতত প্রত্যাহার করা হোক। কারণ এয়ার টারবাইন ফুয়েলের দাম এক ধাক্কায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া বাজারে ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। এই জ্বালানির উপর যে ট্যাক্স ধার্য হয়, বিমানের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেই ব্যয়ই সবথেকে বেশি। এক্ষেত্রে যেভাবে ব্যয় বা‌ড়঩ছে তাতে বিমান চালানো সম্ভব হবে না।

     ইতিমধ্যেই বহু রুটে বিমান চলাচল কমিয়ে দিয়েছে একাধিক সংস্থা।  প্রভাব পড়ছে উড়ান স্কিমের আওতায় থাকা বিমানের উপর। অর্থাৎ ছোট শহরের জন্য ছোট বিমান রুট। সারাদিনে উড়ানের সংখ্যা কমানো হয়েছে। ফুয়েল সারচার্জ ইতিমধ্যেই সব বিমান সংস্থাই বাড়িয়েছে। ফলে বিমান ভাড়া বেড়েছে। এবার এটিএফের দাম আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে। আর তাই যতদিন যুদ্ধ চলছে ততদিনের জন্য ভ্যাট ও এক্সাইজ আদায় সরকার স্থগিত রাখলে সামান্য সুরাহা পাওয়া যাবে।  যদিও কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি এই প্রস্তাব অথবা আবেদনে সাড়া দেবে, এমন সম্ভাবনা প্রায় নেই। কারণ জ্বালানির উপর ধার্য ট্যাক্স রাজকোষের আয়ের অন্যতম উৎস।  আবার এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তেল সংস্থাগুলি পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। সেক্ষেত্রে আবার এটিএফের উপর ধার্য শুল্ক অনির্দিষ্টকালের জন্য হলেও মকুব করবে, এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভবই। বস্তুত কেন্দ্রকে চিঠি লিখে নিজেদের অসহায়তার কথা জানিয়ে আদতে বিমান সংস্থাগুলি বিমানভাড়া বাড়ানোর পথেই হাঁটতে চলেছে। এপ্রিল থেকেই ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রবল। 

    এদিকে সিমেন্ট, টেক্সটাইল, স্টিল সেক্টরের বাণিজ্যে ধস নামার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে। কারণ কাঁচামাল আসছে না। সুরাত ও মহারাষ্ট্রের টেক্সটাইলের ইউনিটগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিক মজুরি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে নিজেদের গ্রামে। বিবাহের মরশুম শিয়রে। সেখানে বস্ত্রশিল্পের উপর বড়সড় ধাক্কা আসছে। যার জেরে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়তে চলেছে জামাকাপড়ের। 
  • Link to this news (বর্তমান)