গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: সকাল হতেই ভাড়া বাড়িতে হাজির হচ্ছেন একঝাঁক নেতাকর্মী। তাঁদের সঙ্গে শুরুতেই হোমওয়ার্ক করে রণকৌশল ঠিক করে নিচ্ছেন বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। দুপুরের দিক থেকে বের হচ্ছেন প্রচারে। জোর দিচ্ছেন পাড়া বৈঠকে।
এখনও পর্যন্ত বিধানসভার প্রায় দু’শো বুথে প্রচার সেরে ফেলেছেন অর্পিতা। মূল বিষয় থাকছে এসআইআরে মানুষের হয়রানি। এমনকি বালুরঘাটে গত ১০ বছর তৃণমূলের বিধায়ক না থাকায় উন্নয়ন হয়নি বলেও প্রচার করছেন অর্পিতা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে হিলি ব্লকের ধলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঈশ্বরপাড়া চকমমোহন মুরারিপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় পাড়া বৈঠক করেন প্রার্থী। সন্ধ্যায় বালুরঘাট শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সল্টলেক পাড়ায় সারেন পাড়া বৈঠক। রাতে আরও একটি কর্মী বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বলেন, সকালে আগে নিজেদের মধ্যে বৈঠক সেরে নিচ্ছি। শুরুতে কৌশল ঠিক করে নিলে কাজ করতে সুবিধা হয়।
বুধবার জেলায় এসে বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অর্পিতাকে আক্রমণ করেছিলেন। বলেছিলেন, অর্পিতা জয়ী হলে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নিতে কলকাতা যেতে হবে। রাতে পাড়া বৈঠকেই পাল্টা দিয়েছেন অর্পিতা। তাঁর মন্তব্য, সুকান্ত মজুমদাররা জানেন না বিধায়কের কাজ আসলে কী। বিজেপি ভাবে বিধায়কের কাজ শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া। তিনি যে উন্নয়ন করতে পারেন, সেটা জানেন না। কারণ বিজেপির বিধায়ক এবং এমপি উন্নয়ন করতেই পারেনি। বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মাঝেও অর্পিতার নজর ঘর গোছানোর দিকেই। বুথ যে আসল শক্তি সেটা উপলব্ধি করে সেদিকেই নজর দিচ্ছেন। তিনি প্রচার করে যাওয়ার পর কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি দলের কাজের কথা তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে।
বালুরঘাট বিধানসভায় ২০১৬ সাল থেকে তৃণমূলের বিধায়ক নেই। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও নির্বাচনি প্রচারে এককাট্টা সবপক্ষ। এক সময় যাঁরা অর্পিতার বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাও এবার জোরকদমে ভোট প্রচারে নেমে পড়েছেন।