সন্দীপন দত্ত, মালদহ: বামফ্রন্ট জমানার শেষের দিক। রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া। একজন তৃণমূলে এলেন কংগ্রেস থেকে, অন্যজন গিয়েছিলেন বিজেপি থেকে। প্রায় এক দশক একই দলে থেকে রাজনীতি করে এখন দু’জনে ইংলিশবাজার কেন্দ্রের দুই দলের প্রার্থী। একজন বিজেপির অম্লান ভাদুড়ি, অন্যজন তৃণমূলের আশিস কুণ্ডু। ইংলিশবাজারে এবার সম্মুখসমরে দুই প্রাক্তন সতীর্থ।
আশিস-অম্লানের বয়সের ফারাক মাত্র পাঁচ বছরের। তাঁদের মধ্যে বড় আশিসই। নয়ের দশকের গোড়ার দিকে দু’জনে চুটিয়ে ছাত্র রাজনীতি করেছেন। কলেজে প্রায় একই সময়ে আশিস ছাত্র পরিষদ ও অম্লান এবিভিপি করতেন।
বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন শানিয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে আসা আশিস প্রথমে মালদহ জেলা ছাত্র পরিষদ ও পরে মালদহ জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন। পরে মালদহ জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক পদও সামলেছেন তিনি। অম্লান আবার বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে নিজের ওয়ার্ডে বিজেপির হয়ে প্রথম নির্বাচন পরিচালনা করেন ১৯৯৫ সালে। এরপর সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন এবং তিনি বিজেপির মালদহ জেলা যুব মোর্চার সভাপতি পদে বসেন ২০০১ সালে। ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে তিনি বিজেপির হয়ে কংগ্রেসের আবু হেনা খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন।
তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে দু’জনেই নিজের নিজের রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই, আন্দোলন, প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করেন। পরবর্তীতে আশিস কংগ্রেসের হয়ে এবং অম্লান বিজেপির হয়ে ইংলিশবাজার পুরসভার কাউন্সিলার নির্বাচিত হন।
এরপর বামফ্রন্ট পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ২০১০ সালে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন অম্লান। বছর দুয়েকের মধ্যে আশিসও কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দেন তৃণমূলে। এরপর প্রায় ১০ বছর তাঁরা একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে নানা আন্দোলন করেন।
আশিস বলেন,এটা ঠিকই যে আমরা এক সময় একই দল করেছি। কিন্তু নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলামের বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করার জন্য বিজেপির যে চক্রান্ত চলছে, তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার নির্বাচন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির প্রার্থী তাদের কথা বলবে, আমরা আমাদের। উন্নয়নের প্রতিযোগিতা হোক। বাকিটা মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে একুশের বিধানসভা ভোটের মুখে অম্লান তৃণমূল ছেড়ে নিজের পুরনো দল বিজেপিতে যোগদান করেন। পরের বছর ইংলিশবাজার পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি বিজেপির কাউন্সিলার হন।
তাঁর কথায়, আশিস অন্য দল থেকে তৃণমূলে গিয়েছিল। আমিও সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তৃণমূলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তৃণমূলের তোষণ, চুরি, দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে আবার পুরনো দলে ফিরে এসেছি।