• বৈষ্ণবনগরে বিদ্রোহের ‘আগুন’ পদ্মে প্রার্থী বদলের দাবিতে ফের বিক্ষোভ কর্মীদের
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • গৌতম অধিকারী, কালিয়াচক: ঘরোয়া কোন্দল এতটাই বেড়েছে, পিছনে পড়ে গিয়েছে প্রচার। 

    বৈষ্ণবনগরে প্রার্থী বাছাই ঘিরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল, ঘোষণার পর এখন চরম আকার নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ, টায়ার জ্বালানো এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হওয়া-সব মিলিয়ে প্রবল চাপে গেরুয়া শিবির।

    বুধবার রাতেও সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে বীরনগর ১ ও বীরনগর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বিজেপি প্রার্থী রাজু কর্মকারের বিরুদ্ধে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। ‘বহিরাগত প্রার্থী মানি না’, ‘ভূমিপুত্র চাই’এই স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।

    বিক্ষোভকারী অচিন্ত্য মণ্ডল বলেন, বহু বছর ধরে দলের জন্য লড়াই করছি। কিন্তু প্রার্থী নির্বাচনের সময় আমাদের গুরুত্বই দেওয়া হল না। যিনি প্রার্থী, তাঁর বাড়ি সুজাপুর বিধানসভা এলাকায়। বাইরে থেকে একজনকে এনে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মানি না। বদল করে স্থানীয় কাউকেই প্রার্থী করতে হবে।

    তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে সুজিত মণ্ডলের মন্তব্য, দলীয় কর্মীদের সম্মান না দিলে এই ক্ষোভ আরও বাড়বে। আমরা বিজেপির আদর্শে বিশ্বাস করি, কিন্তু নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। এই বিধানসভার অনেকেই প্রার্থীকে চেনেন না। এখনও সময় আছে, ভুল সংশোধন করা না হলে বড় ক্ষতি হবে। অনেক বিজেপি কর্মী-সমর্থক ভোট বয়কট করবেন।

    গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, বিক্ষোভের আবহেই বুধবার রাতে বিজেপির মণ্ডল স্তরের দুই কার্যকর্তা, দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার এক পদাধিকারী সহ অত্যন্ত প্রভাবশালী এক নেতার গোপন বৈঠকের খবর ছড়িয়ে যায়। তাঁরা সকলেই প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। এই বিষয়টি নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে।

    এদিকে প্রাক্তন বিধায়ক স্বাধীন কুমার সরকার ইতিমধ্যেই ভূমিপুত্র ইস্যুতে সরব হয়ে বলেছেন, আমাকে টিকিট না দিলেও আপত্তি নেই, কিন্তু বৈষ্ণবনগরের মানুষকে বঞ্চিত করা উচিত হয়নি। স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।

    অন্যদিকে, নতুন করে প্রার্থীপদের দাবিতে উঠে আসছে বৈষ্ণবনগর বিধানসভার বিজেপির কনভেনর বিধান মণ্ডলের নাম। সূত্রের খবর, তিনি গত দু’দিন ধরে ঘোষিত প্রার্থীর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন। যা দলের অন্দরের বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

    তবে, এত কিছুর পরও প্রার্থী রাজু কর্মকার নিজের প্রচার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। বলেন, সাধারণ কর্মীদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকে। সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। 

    প্রধান বিরোধী দলে এই অস্থির পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস আক্রমণ শানিয়েছে। বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী চন্দনা সরকার বলেন, বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন আর আড়ালে থাকছে না। যারা ঘর সামলাতে পারে না, তারাই মানুষের উন্নয়নের কথা বলছে। এটাই সবচেয়ে বড় প্রহসন। বৈষ্ণবনগরের মানুষ বিভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে।

    নির্বাচনের আগে বিজেপিতে এই প্রকাশ্য কোন্দল যে সংগঠন ও ভোটব্যাংকে বড়  প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দলেই। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)