• তালিকায় নাম বাদ! ভোটাধিকার হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে মুরারই
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বহু ভোটার। অনলাইনে প্রকাশিত তালিকার একদম উপরেই লেখা, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার রায়ের পর তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। যা নিয়ে দিকে দিকে নাম বাদ পড়া মানুষের ক্ষোভ পুঞ্জিভুত হচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে তার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুরারইয়ে একটি বুথেই বাদ পড়েছেন ৭৮ জন ভোটার। বাদের তালিকায় রয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্যও। এদিকে, এনআরসিও লাগু হবে বলে কেন্দ্রের শাসকদল প্রচার করছে। তা নিয়েও ভোটাধিকার হারানো ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তৃণমূলের অবশ্য দাবি, এসআইআরের শুরু থেকেই বিজেপি নানা চক্রান্ত করে আসছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলে দিচ্ছেন, কত ভোটার বাদ যাবে। স্বভাবতই, বৈধ ভোটারদের বাদ পড়ার পিছনে বিজেপির চক্রান্ত রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। 

    মুরারই ১ ব্লকের কয়েকটা বুথ তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। তার মধ্যে মুরারই ১ ব্লকের হরিণডোরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫২, ডুরিয়া একরাম আলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১১ ও বীরহামপুরের ১২০ নম্বর বুথে হইচই পড়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ৫২ নম্বর বুথে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭৮ জন। সেখানে বাদ পড়েছেন ৩৪ জন। ১২০ নম্বর বুথে ১৭১ জন বিচারধীনের মধ্যে দেওয়া হয়েছে ৩৬ জনকে। একই সঙ্গে ১২০ নম্বর বুথে ৭৮ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ২৫ জনের নাম তালিকায় নেই। ৫২ নম্বর বুথের বাদের তালিকায় রয়েছেন তাসিরুল শেখ ও তাঁর ভাই রহিম শেখ। তাঁর বাবা রহমান শেখ বলেন, ‘আমার, স্ত্রীর ও এক ছেলের নাম উঠে গেল। অথচ, দুই ছেলের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল। নোটিস পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলাম। তারপরও বাদ দেওয়া হল। এটা অন্যায়।’ ওই বুথের পঞ্চায়েত সদস্য রিয়াজউদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘এরকম ৩৪ জন বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি ভাবছে এভাবে জিতবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি।’ 

    অন্যদিকে, ১১১ নম্বর বুথের বাসিন্দা মুর্শিদা বিবিরা পাঁচ ভাইবোন। একই পিতার পাঁচ সন্তান হওয়ায় লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নোটিস দেওয়া হয়েছিল।  প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন তাঁরা।  মুর্শিদা বলেন, ‘চারভাইবোনের নাম উঠে গেল, আমাকে কেন বাদ দেওয়া হল বুঝতে পারছি না। সরকারি পরিষেবাও কি বন্ধ হবে?’ উৎকণ্ঠায় মুর্শিদা। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বিজেপির চক্রান্ত। আমরা মানুষকে একত্রিত করছি। ট্রাইবুন্যালে যাওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ 

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়ছেন নলহাটি রিধানসভা রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালোয়াডাঙা গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের ওলিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পূর্বপুরষদের আমল থেকে এখানে বসবাস করছি। বহু বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি। তারপরও আমি বাদ পড়লাম। অথচ পরিবারের সকলের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। তৃণমূল করি বলে বিজেপির চক্রান্ত করে বাদ দিয়েছে।’ 

    শুধু মসুলিম ভোটার নয়, এই পঞ্চায়েতের জোগাই গ্রামের লোটন মণ্ডল, আনন্দ মাল ও তাঁর ছেলে দেবদুলাল মাল, রিশন মাল সহ গ্রামের ১৯ জন হিন্দু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। লোটন বলেন, ‘বাবার নামে ভুল থাকায় নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কাগজপত্র জমা দিই। কিন্তু বাবা, মা ও স্ত্রীর নাম থাকলেও আমার নাম বাদ পড়ল কেন বুঝতে পারছি না।’
  • Link to this news (বর্তমান)