নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: তৃতীয় দফার প্রার্থী নিয়েও উত্তরবঙ্গে বিজেপিতে ‘বিদ্রোহ’ অব্যাহত। কোচবিহার দক্ষিণে পদ্ম পার্টির প্রার্থীর বিরুদ্ধে পড়ল ফ্লেক্স। আর রাজগঞ্জে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি কর্মীরা। যদিও এসব আন্দোলনকে আমল দিতে নারাজ গেরুয়া শিবিরের জেলা নেতৃত্ব।
বুধবার রাতে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম ঘোষণা হয়েছে। এরপরই তাঁকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ফ্লেক্স পড়ে শহরের রেলগুমটি এলাকায়। ফ্লেক্সের নীচে লেখা ছিল, ‘কোচবিহারে বিজেপির অবহেলিত কার্যকর্তারা’। ফলে এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ছড়ায়। বিষয়টি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করে দেয় তৃণমূল কংগ্রেসও। অভিযোগ, কোচবিহারে বাড়ি হলেও বিজেপি প্রার্থী হিসাবে যাঁর নাম ঘোষণা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এখানে থাকেন না। যদিও রথীনবাবুর দাবি, আমি মোটেই বহিরাগত নই। এই শহরেই আমার স্কুল ও কলেজ জীবন কেটেছে। এসব করে তৃণমূল নিজেরাই নিজেদের নীচে নামাচ্ছে। মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে এদিন প্রচার শুরু করে দেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে।
এদিকে, রাজগঞ্জে ‘দলবদলু’ দীনেশ সরকারকে (হারাধন) প্রার্থী হিসাবে মেনে নিতে নারাজ স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বড় অংশ। রাজবংশী মুখকে প্রার্থী করতে হবে, এই দাবিতে এদিন বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রার্থী নিয়ে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেও সরব হন। এনিয়ে রাজগঞ্জের বিজেপি কর্মীদের কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়াতেও দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেন। পদ্ম পার্টির রাজগঞ্জ উত্তর মণ্ডলের সভাপতি অর্জুন মণ্ডল বলেন, প্রার্থী না হওয়ায় দলের কর্মীদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বিষয়টি দলের জেলা নেতৃত্বকে জানাব। প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অন্দরে যখন কোন্দল তুঙ্গে, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়ের তখন দাবি, রাজগঞ্জে আমরা ৫০ হাজার ভোটে জিতব।