• ভোট ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গে বাজেয়াপ্ত ৩৫ লক্ষ টাকা, অসম থেকে বিভিন্ন কৌশলে ঢুকছে হিসাব বহির্ভূত টাকা, তৃণমূল-বিজেপির বাগযুদ্ধ চরমে
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: অসম থেকে উত্তরবঙ্গে ঢুকছে হিসেব বহির্ভূত টাকা! তা কখনও গাড়ির ড্যাশবোর্ডে, সান রুফে সাজিয়ে, আবার কখনও সিটের নীচে লুকিয়ে রাজ্যে আনা হচ্ছে। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে নগদ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর এমন তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের ধারণা, এবার ভোটের ময়দানে চলতে পারে টাকার খেলা। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য আন্তঃরাজ্য চেকপোস্টগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এনিয়ে ভোটের ময়দানে বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। 

    উত্তরবঙ্গের আন্তঃরাজ্য চেকপোস্টগুলির মধ্যে অসম সংলগ্ন কোচবিহার জেলার বক্সিরহাট থানার জোড়াইমোড়। এই চেকপোস্ট ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। সংশ্লিষ্ট থানার আর একটি চেকপোস্ট রয়েছে সংকোশ মোড়ে। এটি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে অবস্থিত। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দু’টি চেকপোস্ট থেকে একাধিকাবার নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, ওই দু’টি চেকপোস্টে অধিকাংশ গাড়ির সিটের নীচ থেকে  হিসেব বহির্ভূত টাকা মিলেছে। 

    ইতিমধ্যে সেখান থেকে কয়েক দফায় উদ্ধার হয়েছে সাত লক্ষ টাকা। অধিকাংশ গাড়ি অসম থেকে বক্সিরহাটে প্রবেশ করে। এর আগে আলিপুরদুয়ারে অসমের চিরাং থেকে আসা একটি গাড়ির ড্যাশবোর্ড ও সান রুফে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। এনিয়ে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, অসম থেকে উত্তরবঙ্গের ভোটের ময়দানে এভাবে টাকা ঢোকান হচ্ছে।

    এর বাইরে বুধবার রাতে  শিলিগুড়ির কাছে সেভক রেল গেটের কাছে ছোট গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে হিসেব বহির্ভূত পাঁচ লক্ষ টাকা। এর আগে কোচবিহার জেলার শীতলকুচি ও সিতাই থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৮ লক্ষ  ৩০ হাজার টাকা। ভোটের ময়দানে এনিয়ে বিভিন্ন মহল উদ্বিগ্ন। তাঁদের ধারণা, কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে ভোটের ময়দানে টাকার খেলা চলছে। ভোটের দিন যত এগবে, এই খেলা ততটাই বাড়বে বলে আশঙ্কা।

    এনিয়ে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা (সমতল) বেদব্রত দত্ত বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বিজেপির নেই। তাই বাংলা দখলে ওরা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে অফিসার বদল করেছে। এখন টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করবে। অসম থেকে এরাজ্যে টাকা ঢুকছে। এসব করেও ওরা তৃণমূলকে হারাতে  পারবে না। পাল্টা বিজেপির শিলিগুড়ি বিভাগের ইনচার্জ তথা কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস বলেন, বিজেপি এধরনের রাজনীতি কোনোদিন করেনি, আর করবেও না। দুর্নীতিতে জর্জরিত তৃণমূল এবার ভোটে বাংলা ছাড়া হবে। তা বুঝতে পেরেই তারা বিজেপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)