• এবার দেউচা পাচামিতে এক লক্ষ ছেলেমেয়ের চাকরি হবে: মমতা, বিদ্যুতের আর অভাব হবে না আরও সস্তা হবে
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • পিনাকী ধোলে, খয়রাশোল: ‘একসময় হ্যারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হত, এখন লোডশেডিং কী, তা মানুষ ভুলতে বসেছে। বীরভূমের দেউচা পাচামি প্রকল্প রূপায়িত হলে আগামী একশো বছর রাজ‍্যে বিদ্যুতের অভাব হবে না। শুধু তাই নয়, এক লক্ষ ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হবে এই লাল মাটিতে।’ বৃহস্পতিবার খয়রাশোলের সভা থেকে বীরভূমের ভবিষ‍্যৎ নিয়ে এভাবেই আশার কথা শোনালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম খোলামুখ কয়লাখনি প্রকল্পকে হাতিয়ার করে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, আগামী দিনে বীরভূম, বাঁকুড়া ও দুই বর্ধমান হবে রাজ্যের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেস্টিনেশন’।

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাম আমলে লোডশেডিংয়ের যে দুঃসহ যন্ত্রণা মানুষকে সহ্য করতে হত, তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই আঁধার ঘুচেছে। আমেরিকার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই প্রস্তাবিত কয়লা খনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু হলে বিদ্যুতের দামও কমবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। ৩৪০০ একর জমিতে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ কয়লা রাজ‍্যের ভাঁড়ার যে উপচে দেবে তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই প্রশাসনিক মহলে। ইতিমধ‍্যেই জমিদাতাদের জন‍্য আর্থিক প্যাকেজ ও কয়েক হাজার যুবক-যুবতীকে চাকরি দিয়েছে সরকার। এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলির বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে জেলা প্রশাসনের লাগাতার বৈঠকের সুফলও মিলতে শুরু করেছে।

    তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বপ্নের প্রকল্পের অন্দরে কাঁটা হয়ে বিঁধছে টেন্ডার বা বরাতের জট। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মহাসমারোহে খনন কাজ শুরু হলেও গত মাস তিনেক ধরে এই কাজ থমকে রয়েছে। প্রশাসনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মাটির স্তর সরিয়ে ব্যাসল্ট তোলার বরাত পাওয়া সংস্থার অন্যতম কর্তা বালি লুটের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে ধরা পড়েছেন। ফলে সরকার সেই বরাত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্রের খবর। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে যাতে এই কাজ শুরু করা যায় তারজন্য সবরকম তোড়জোড় চলছে। যদিও এই সাময়িক বাধা উড়িয়ে দিয়েই মমতার ঘোষণা, দেউচা-পাচামি শুধু বীরভূম নয়, গোটা বাংলার ভবিষ‍্যৎ বদলে দেবে। খনন শুরু হওয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ ব্যাসল্ট শিলা এবং পরবর্তী পর্যায়ে কয়লা উত্তোলন রাজ‍্যের অর্থনীতির ভোল বদলে দেবে বলেই মনে করছে তৃণমূল শিবির। এখন দেখার, বরাতের জট কাটিয়ে কবে পুনরায় পুরোদমে শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রীর সাধের এই ‘বিশ্বসেরা’ খনি প্রকল্প। যদিও এনিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, ‘দেউচা পাচামি কয়লা খনি হল মরীচিকা। আসলে পাথর তোলার ফন্দি করেছে সরকার। একথা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি। এখনও বলছি।’ খয়রাশোলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় ভিড়। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)