• কয়লা শিল্পে বেসরকারিকরণ, ওরা দেশ বেচে দিচ্ছে! বিজেপিকে তোপ মমতার
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে এসে কেন্দ্রীয় সংস্থার বেসরকারিকরণ নিয়ে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব঩ন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরের লাউদোহায় সভা থেকে বিজেপিকে তোপ দাগেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ওরা দেশ বেচে দিচ্ছে ইসিএল, বিসিসিএলের সব কয়লাখনি বেসরকারি করে দিচ্ছে। শুধু কোল ‌ইন্ডিয়া নয়, রেল, সেইল এয়ার ইন্ডিয়া সব বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।’ এরপরই তিনি কয়লা খাদান নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    সভার শুরুতেই তিনি খনি অঞ্চলের শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা বহু কষ্ট করে কয়লা উত্তোলন করেন।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘যেসব কয়লাখনি বন্ধ রয়েছে। যেসব কয়লাখনি থেকে কয়লা পাচার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে আমরা বলেছিলাম সেইসব অবৈধ খাদান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বৈধ করে রাজ্য সরকারকে দেওয়া হোক। বৈধভাবে কয়লা তোলা সম্ভব হত। পাশাপাশি শ্রমিকরা মর্যাদা পেতেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ বছর ধরে কেন্দ্রকে সেই প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা মেনে নেয়নি। এরপরই বিজেপি সরকার কীভাবে একের পর এক সরকারি সংস্থা বিক্রি করে দিচ্ছে তা মুখ্য‌মন্ত্রী তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে তাঁর আমলে বিভিন্ন শিল্পতালুক হয়েছে। ছ’টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি হচ্ছে বলেও জানান মমতা। 

    পাশাপাশি বীরভূমের দেওচা পাচামির প্রসঙ্গে তুলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের কথাও জানিয়েছেন দলনেত্রী।

    কেন্দ্রীয় সংস্থা বিক্রি করার অভিযোগের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলায় কীভাবে উন্নয়ন হয়েছে তারও ব্যাখ্যা দেন মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো এদিন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে সভা করেন। সেখানে পাণ্ডবেশ্বরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আমলেই যে পৃথক জেলা, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, অণ্ডাল বিমানবন্দরের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে তা জনতাকে স্মরণ করান। 

    রা঩঩঩জ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, শুধু পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকাতেই ২২টি কয়লাখনি বেসরকারিকরণ করেছে বিজেপি সরকার। পাণ্ডবেশ্বরের উন্নয়ন তুলে ধরে বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায় ২৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছে। 

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সাধারণ মানুষের উৎসাহ কতটা এদিন পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে তাঁর প্রমাণ মিলেছে। জনসভা শুরু হয়ে গেলেও দলের কর্মী-সমর্থকরা তাঁর জন্য তৈরি হেলিপ্যাড ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন। হেলিপ্যাড আকাশে চক্কর কাটতেই সভাস্থলে প্রবল উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে। তিনি সভাস্থলে আসতেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি মহিলাদের প্রবল আবেগ ধরা পড়ে। দলনেত্রী সভায় মন্ত্রোচ্চারণ করার সময় উলুধ্বনি দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের উৎসাহ দেখে মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের ভোটরক্ষার দায়িত্ব দিয়ে যান।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)