গোকর্ণে দ্বিতীয় বিয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহিলাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, কান্দি: বাবার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। প্রতিবেশী মহিলাকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে কান্দি থানার গোকর্ণ গ্রামের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম সুচিত্রা মিস্ত্রি ওরফে ফেন্সি মিস্ত্রি(৪৫)। তিনি গোকর্ণ গ্রামের কামারপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনায় পিন্টু মণ্ডলের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তের বাবাকেও আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুচিত্রাদেবীর স্বামী প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান। এরপর কয়েকবছর ধরে প্রতিবেশী মিলন মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। এনিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অসংখ্যবার ঝামেলাও হয়েছে। সুচিত্রাদেবী পরিচারিকার কাজ করতেন। মঙ্গলবার ওই এলাকায় চাউর হয় মিলন সুচিত্রাকে বিয়ে করেছে। এরপর সুচিত্রার বাড়িতে এসে পিন্টু খুনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এরপর বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই রাতে মহিলা কাজ করে বাড়ি ফিরছিলেন। কায়েতপাড়ার এক বাসিন্দার বাড়ির কাছে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে তাঁকে স্থানীয় গোকর্ণ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশি শ্রীকেশ মিস্ত্রি বলেন, মহিলাকে উদ্ধার করার সময় দেখা যায় তাঁর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাঠিপেটা করে দুই হাত, পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শরীরে কোপানোর চিহ্নও রয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে সেখানে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃতার ভাশুরঝি পঞ্চমী মিস্ত্রি বলেন, আসলে আমার কাকিমার সঙ্গে অভিযুক্তের বাবার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল কয়েকবছর ধরে। এমনকি মঙ্গলবার তাঁদের মধ্যে বিয়েও হয়েছে বলে জানা যায়। এই কারণেই কাকিমাকে খুন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পিন্টু মণ্ডলের নামে কান্দি থানায় খুনের অভিযোগ করেন মৃতার ছেলে সন্দীপ মিস্ত্রি। সন্দীপ বলেন, অভিযুক্তের বাবার সঙ্গে আমার মায়ের সম্পর্কের কথা কয়েকদিন আগে জানতে পারি। এরপর মঙ্গলবার সকালে পিন্টু বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাকে মেরে ফেলবে। ওই মাকে খুন করেছে।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকা থমথমে রয়েছে। মৃতার বাড়িতে কয়েকজন প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা ভিড় করে রয়েছেন। মৃতার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই অভিযুক্তের বাড়ি। এদিন ওই বাড়ি তালাবন্ধ ছিল।