• বাঙালি নেতাদের অবিশ্বাস, জেলা কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরা, বঙ্গ বিজেপিতে দিল্লির নজিরবিহীন নজরদারি
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বাংলার বিজেপি নেতাদের উপর বিশ্বাস নেই! জেলা সাংগঠনিক কার্যালয়গুলিতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নজিরবিহীন নজরদারি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই ক্যামেরায় আবার সাউন্ড রেকর্ডিং সিস্টেমও বসানো। ফলে, ভিডিও-অডিও দু’টি পদ্ধতিতেই বাঙালি নেতাদের ‘নজরবন্দি’ করেছেন অমিত শাহ, নীতিন নবীনরা। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলায় এহেন নজরদারি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নিবিড় সমন্বয় রাখতে ‘কন্ট্রোলরুম’ খোলা হয়েছে কলকাতায়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এমন ‘অবিশ্বাসী মনোভাব’ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিজেপির অন্দরে। নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভিতরে ভিতরে চটে লাল।    

    বিজেপির সূত্রের খবর, কলকাতার কন্ট্রোলরুমে বসেই দিল্লির নেতাদের বিশেষ টিম পার্টি অফিসের অন্দরের ছবি ও কথাবার্তা শুনছেন। জেলা সভাপতি সহ অন্যান্য নেতারা কে কখন আসছেন, কার সঙ্গে দেখা করছেন, কী কথা বলছেন, কতক্ষণ কথা বলছেন—সবই নখদর্পণে রাখছেন।  বিজেপির আদি নেতা বলে পরিচিত নরেশ কোনার বলছিলেন, ‘বাংলা জিততে হলে এখানকার নেতাদের উপরই ভরসা ও বিশ্বাস দু’টোই রাখতে হবে। অন্য রাজ্য থেকে আসা নেতারা সব কিছু করতে পারবেন না। পার্টি অফিসে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি চালানো একদম উচিত নয়।’ মাস কয়েক আগে ঠিক এমনই সুরে কথা বলে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের এক সাংসদ। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলায় অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন। তাঁদের কাজে লাগানো হচ্ছে না।’ তৃণমূল নেতা দেবু টুডু কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘ওঁদের কেউ কাউকে বিশ্বাস করেন না। স্বাভাবিকভাবেই বাংলার মানুষও বিজেপিকে বিশ্বাস করে না।’

    ভোটের মহারণ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই বঙ্গে ভিনরাজ্যের নেতারা চলে আসেন। এখন সংগঠনের রাশ তাঁদের হাতেই। কর্মসূচি ঠিক করে দিচ্ছেন। প্রার্থীকে প্রচারের কৌশল শেখাচ্ছেন। অনেকটা রোবটের মতো অবস্থা বাঙালি নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে প্রার্থীদের। ফলে, জেলার বহু নেতার কর্মসূচি রূপায়ণে কোনও ভূমিকাই থাকছে না। তাঁরা আর পাঁচজন কর্মীর মতোই প্রচার করছেন। এমনই এক নেতা বলছিলেন, প্রার্থী নিয়ে দলের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রেই অসন্তোষ রয়েছে কর্মীদের মধ্যে। অনেক জায়গায় জেলা নেতৃত্বের মতামত গুরুত্ব পায়নি। তাঁরা যাঁদের প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন, তাঁদেরকে তালিকার বাইরে রাখা রয়েছে। তার উপর সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চলছে। ক্ষোভ তো বাড়বেই! 

    একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলা প্রায় দখল করা হয়ে গিয়েছে বলে আওয়াজ তুলেছিলেন বিজেপির দিল্লির নেতারা। তা সত্ত্বেও এভাবে বঙ্গ নেতাদের উপর নজরদারি চালানো হয়নি। তার আগেও নজরদারি চালানোর এমন ছিল না বলে আদি নেতারা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জেলার পার্টি অফিস গুলিতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি চালানো মানে স্থানীয় নেতৃত্বকে অপমান করা। এমনিতেই ভিনরাজ্য থেকে আসা নেতাদের জন্য বিপুল অংকের টাকা খরচ করা হচ্ছে। বিলাসবহুল হোটেলে রাখা হচ্ছে। দামী গাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে। অথচ, যাঁরা এতদিন মাঠে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সংগঠন তৈরি করেছে, সেই সব নেতা-কর্মীরা এখন ব্রাত্য। তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। 
  • Link to this news (বর্তমান)