এসআইআরের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুও, ‘বাংলার বাড়ি’ নির্মাণ চলছে জোর কদমে
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রীতেশ বসু, পাণ্ডবেশ্বর: ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা। এই তিনটি গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বাংলার জন্য বেশ কয়েকবছর ধরেই বন্ধ রেখেছে মোদি সরকার। আন্দোলন করা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া পর্যন্ত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহুকিছু করার পরেও একটিও টাকা পায়নি বাংলা। এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব কোষাগার থেকে টাকা খরচ করে তিন ক্ষেত্রের জন্যই সম্পূর্ণ নিজের প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা মোদি সরকার না দেওয়ায় চালু হয়েছে রাজ্যের বাংলার বাড়ি প্রকল্প। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে (এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে) ২০ লক্ষ উপভোক্তার জন্য বাড়ি তৈরির কাজ চলছে জোর কদমে। ওইসঙ্গে উপভোক্তারাই তুলছেন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যু। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় আজকে বাড়ি তৈরি হচ্ছে বটে কিন্তু কেন্দ্র যথাসময়ে অর্থ বরাদ্দ করলে কয়েকবছর আগেই তাঁরা মাথায় উপর পাকা ছাদ পেতেন।
পাণ্ডবেশ্বরের জয়ালভাঙ্গা গ্রাম। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সহায়তায় বাড়ি তৈরির কাজে চূড়ান্ত ব্যস্ত রমা বাউরি। জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার জীবনের স্বপ পূরণ হচ্ছে। রাজ্যের থেকে পাওয়া টাকার সঙ্গে নিজের কিছু সঞ্চয় মিলিয়ে দ্রুত ছাদ আঁটার কাজ শেষ করতে চাইছি। বছর দুই আগেই তো শুনেছিলাম, টাকা পাব। কিন্তু ওরা (কেন্দ্র) কেন দিল না কে জানে! দিলে আরো কম খরচে আমার পুরো বাড়িটা হয়ে যেত। এখন জিনিসের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে।
রাজ্যের তরফে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ পরিবারকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে আরো ২০ লক্ষ ব্যক্তিকে প্রথম কিস্তির জন্য মাথাপিছু ৬০ হাজার টাকা। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে, রমার মতোই আর এক উপভোক্তা অক্ষয় বাউড়িও রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, আমরা তো সাধারণ মানুষ। আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য আটকে কার লাভ?
তবে শুধু উপভোক্তারাই বলছেন না, এসআইআরের ফাঁকে মহল্লায় মহল্লায়ও ভোটপ্রচারের ইস্যু কেন্দ্রীয় বঞ্চনা। কমবেশি সমস্ত দলের কর্মীরাই সরব এনিয়ে। তৃণমূলের তরফে মিটিং মিছিলে বিষয়টি তোলা হলে, তার পালটা বক্তব্য দিচ্ছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের দাবি, রাজ্য যথাসময়ে হিসাব না দেওয়ার কারণেই কেন্দ্র আজ টাকা প্রদান বন্ধ করেছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মোদি সরকারের তরফে প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পে বাংলার ১১ লক্ষ মানুষকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েও কোনো টাকা দেয়নি কেন্দ্র।