বদলে যাওয়া বেলপাহাড়ীর জোড়াম গ্রামের গল্প অভিষেককে শোনাতে চান বাসিন্দারা
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বেলপাহাড়ীর প্রত্যন্ত গ্ৰাম জোড়াম। একসময় দারিদ্র ও অনাহারে গ্ৰামবাসীদের জীবন কাটত। খাবার বলতে ছিল ভাত ও পিঁপড়ের ডিম। ১৯৯৪ সালে জানুয়ারি মাসে এই গ্ৰামেই এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময় তিনি ছিলেন রাজ্যের যুব কংগ্রেসের নেত্রী। গ্ৰামের প্রবীণ ব্যক্তিরা আজও ভুলে যাননি দিদির গ্ৰামে আসার কথা। জামবনীর পরিহাটির সভায় গিয়ে তাঁরা অভিষেককে শোনাতে চান দিদির ওই গ্ৰামে আসার পুরনো দিনের গল্প।
বেলপাহাড়ী বাজার থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে জোড়াম গ্ৰাম। গ্ৰামের চারিদিক পাহাড় দিয়ে ঘেরা। বর্তমানে গ্ৰামে পাকা রাস্তা হয়েছে। রয়েছে দু’টি আইসিডিএস কেন্দ্র। চাষবাসের সুবিধার জন্য ৮০ লক্ষ টাকা খরচে চেক ড্যাম তৈরি করা হয়েছে। এখন রেশন বিনামূল্যে চাল ও আটা পাওয়া যায়। গ্ৰামের বেশিরভাগ বাসিন্দা চাষাবাদ করেন। এই গ্ৰামের তিন যুবক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ পেয়েছেন। একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিন দশক আগে বাইকে চড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়াম গ্ৰামে এসেছিলেন। গ্ৰাম পরিদর্শনের সময় শবর পরিবারের সদস্যদের ফ্যানভাতের সঙ্গে পিপঁড়ের ডিম খেতে দেখেছিলেন। যা তাঁকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। এরপরই তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দাদের অসহায় অবস্থার কথা রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন।
বর্তমানে জোড়াম গ্ৰামের ছবি বদলে গিয়েছে। দু’বেলা খাবারের জন্য আর চিন্তা করতে হয় না। গ্ৰামবাসীদের আর ভিনরাজ্যে কাজের জন্য যেতে হয় না। বাড়ির উঠোনে বসে সত্তরোর্ধ্ব শুকলাল শবর বলেন, উনার গ্ৰামে আসার কথা এখনো আমার মনে আছে। আমি তখন যুবক। বাইকে চড়ে গ্ৰামে এসেছিলেন। শবরপাড়ায় আমাদের অবস্থা দেখে খুব বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিলেন। পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। উনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খবর পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলাম। অপর বাসিন্দা বৃদ্ধ দিলীপ মাহাত বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা সবাই কংগ্রেস দল করত। গ্ৰামে যেদিন এসেছিলেন আমি উনার পাশেই ছিলাম। আমাদের নিয়ে গ্ৰামের পাহাড়ে উঠেছিলেন। উনার খুব দ্রুত হাঁটার কথাও মনে আছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে। যদি সুযোগ পাই দারিদ্র অনাহারে জীবন কাটানো অখ্যাত এই গ্ৰামের ছবি বদলে যাওয়ার কথাও বলব।
বেলপাহাড়ীর পাথরডাঙা গ্ৰামের বাড়িতে বসে বছর বৃদ্ধ শান্তনু মাহাত বলেন, বেলপাহাড়ীর নাম তখন রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ জানতই না। অভাব অনটনে এই এলাকার মানুষের জীবন কাটত। রাস্তাঘাট বলতে কিছুই ছিল না। আমার বাইকের পিছনে চাপিয়ে যুবনেত্রীকে জোরাম গ্ৰামে গিয়েছিলাম।
জোরাম গ্ৰামে যেতে একটা খাল পার হতে হয়েছিল। গ্ৰামের বাসিন্দাদের এই কষ্ট দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কংগ্ৰেসের যুবনেত্রী থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে উঠার মাঝে ছোট্ট এই জোরাম গ্ৰামের নাম জুড়ে রয়েছে।
গ্ৰামের বাসিন্দা নিখিল মাহাত বলেন, বাবা, কাকার মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্ৰামের আসার গল্প বহুবার শুনেছি। গ্ৰামে আসা, পাহাড়ের ওঠার গল্প শুনে ছোটবেলায় অবাক হতাম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাব। যদি কথা বলার সুযোগ পায় উনাকে বলব জোরাম গ্ৰামের মানুষের গল্পে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জুড়ে রয়েছেন। যে গ্ৰামের মানুষকে তিনি একদিন ভালোভাবে বেঁচে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন।