• সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকেও বাদ টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ, বিক্ষোভ ভোটারদের
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: প্রথমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ। তারপরে শুনানি এবং নথি দেখানোর ঝক্কি পেরিয়ে দেখা যাচ্ছে, নাম ওঠেনি সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও। এসআইআরের চলতি পর্বে এমন ভোগান্তি, এবং প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে পড়ে তীব্র ক্ষোভ জানালেন বহু ভোটার। বৃহস্পতিবার টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে ভোটাররা বিক্ষোভ দেখালেন আমডাঙা এবং বসিরহাটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আমডাঙার শশিপুর গ্রামের ৫৮ নম্বর বুথে মোট ভোটার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে ২৪১ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে ১৩৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের কথায়, শুধু নাম বাদ যাওয়া নয়, তার আগে দীর্ঘদিন ধরে শুনানি, নথি জোগাড়, দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ– সব মিলিয়ে তীব্র ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ শাহনাজ হোসেন বলেন, ৫০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। ২০০২ সালেও ভোট দিয়েছি। তারপরও নাম নিয়ে সন্দেহ শুধু অন্যায় নয়, অপমানও। আর এক বাসিন্দা ফতেমা বিবির অভিযোগ, হিয়ারিংয়ের জন্য বারবার যেতে হয়েছে। সব কাগজ জমা দিয়েছি। তবুও নাম নেই তালিকায়। আমরা কি এ দেশের নাগরিক নই? কেন বারবার প্রমাণ দিতে হবে?

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে বুধবার হাতে ভোটার কার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের গ্রামবাসীরাও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বড়গোবরা ৩ নম্বর বুথের ২৫৫ জন ভোটারের নাম উধাও। এই বাদ পড়া ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সেই নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন। ওই এলাকার বিএলও নূরজাহান বেগম বলেন, আমরা কাজ করেছি ওই বড়গোবরা গ্রামে। সেখানে তো তালিকায় থাকা প্রায় সকলেরই বৈধ নথিপত্র ছিল। তা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁদের নাম মুছে গেল, তা স্পষ্ট নয়। নাম বাদ যাওয়া এক ভোটার সায়েদ আলি সরকার  বলেন, ২০০২ সালেও ভোট দিয়েছি। অথচ এবার হঠাৎ করে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে। তবুও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে কখনো ভাবিনি।

    অন্যদিকে, এসআইআর তালিকা ঘিরে বিভ্রান্তির আরও একটি চিত্র সামনে এসেছে। বিচারাধীন ভোটার হয়েও প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এক শিক্ষককে। শাসনের গোলাবাড়ি পল্লিমঙ্গল হাইস্কুলের শিক্ষক মুন্সি সাদেকুল করিম। তাঁর বাড়ি হুগলির খানাকুলের রামচন্দ্রপুরে। কিন্তু তাঁর পরিবারের অনান্যদের নাম থাকলেও তিনি বাদ। তাঁর নিজের নামই এখনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নেই, অথচ তাঁকে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাদেকুলের অভিযোগ, আমি নিজেই বিচারাধীন ভোটার। অথচ আমাকে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটা কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না। আসলে এটা প্রহসন হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)