• দুয়ারে ভোট এলেও হাওড়া সদরে নিষ্ক্রিয় বহু মণ্ডল, চিন্তায় বিজেপি, ২৪টির মধ্যে সক্রিয়ভাবে প্রচারে নেমেছে মাত্র ১৫টি
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিজেপির হাওড়া সদর সাংগঠনিক জেলায় মণ্ডল স্তরেই যেন ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক মণ্ডলে অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে, যা ভোটের মুখে দলের প্রচার কৌশলকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। কোথাও প্রার্থীকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিক্ষোভ, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের সংগঠক হয়েও টিকিট না পাওয়ায় চরম আক্ষেপ— এই দুই প্রবণতাই এখন মণ্ডল স্তরে স্পষ্ট। এই আবহের মধ্যেই বুধবার মধ্য হাওড়া কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে বিপ্লব মণ্ডলের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। ২০০৪ সালে জেলা সভাপতি ছিলেন তিনি।

    হাওড়া সদরের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ২৪টি মণ্ডল রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে প্রার্থীর হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারে নামতে দেখা গিয়েছে প্রায় ১৫টি মণ্ডলকে। বাকি মণ্ডলের নেতা-কর্মীদের কীভাবে সক্রিয় করা যাবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছে নেতৃত্ব। বিশেষ করে মধ্য হাওড়া, দক্ষিণ হাওড়া, সাঁকরাইল— এই তিন কেন্দ্রে চারটি করে মণ্ডল থাকলেও সর্বত্র সমান তালে প্রচার গতি পায়নি। এদিন মধ্য হাওড়ায় পুরানো সংগঠক বিপ্লব মণ্ডল টিকিট পাওয়ায় দলের মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কর্মীদের অনেকে বলছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তৃণমূলের বর্ষীয়ান ও দাপুটে প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য হেভিওয়েট প্রার্থী দরকার ছিল। দল হয়তো পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    অন্যদিকে, উত্তর হাওড়া বিধানসভায় তুলনামূলকভাবে সংগঠনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে অধিকাংশ মণ্ডলের কর্মীরা প্রার্থীর সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন। প্রার্থী উমেশ রাইকে ঘিরে শুরুতে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও তা অনেকটাই স্তিমিত বলে দলীয় সূত্রের দাবি। শিবপুরে প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নেমেছে মণ্ডল পর্যায়ের অধিকাংশ কর্মী। তবে বালিতে অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে দু’টির মধ্যে একটি মণ্ডল কার্যত নিষ্ক্রিয় বলে ধরে নিয়েছেন দলীয় নেতাদের একাংশ। পুরানো কর্মীদের অভিযোগ, সারা বছর মণ্ডল স্তরে তেমন কোনো কর্মসূচি না হওয়ায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে ভোটের আগে হঠাৎ করে একেকটি মণ্ডলে মাত্র ১০-১৫ জন কর্মী সক্রিয় হলেও তা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারছে না। কর্মীদের একাংশের কথায়, ভোটের আগে বুথ সভাপতির মতো নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতার হাতেই খরচের টাকা আসে এবং তাঁরাই সীমিত সংখ্যক কর্মী দিয়ে প্রচারের কাজ চালান।

    এদিকে, অভিজ্ঞ সংগঠকদের সুযোগ না দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত বা অতীতে পরাজিত প্রার্থীদের টিকিট দেওয়ায় দলের অন্দরে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেরই আশঙ্কা, ভোটের আর বেশিদিন বাকি নেই, তার আগে প্রায় আটটি মণ্ডলে জমে থাকা অসন্তোষ কাটিয়ে ওঠা সহজ কাজ নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রচারে গতি আনতে কোনো রূপরেখা স্পষ্ট করতে পারছে না নেতৃত্বের একাংশ। যদিও বিজেপির জেলা সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিং সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘এই ধরনের কোনো সমস্যা দলের অন্দরে নেই। যেখানে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে, সেখানে কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। এত বড় সংগঠনে কিছু মান-অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু নির্বাচনের লড়াইয়ে সবাই একসঙ্গেই আছেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)