নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গ্রীষ্মকালে সুন্দরবনের প্রধান সমস্যা হল পর্যাপ্ত পানীয় জল। ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এটাই প্রধান সমস্যা। ফলে ভোটের আগে অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে পানীয় জলই। এই এলাকার ভোটারদের অভিযোগ, ভোট আসে, যায় কিন্তু জলের সমস্যা কখনও মেটে না।
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি বড়ো আকারে সামনে চলে আসায় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জল সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু মানুষ শুধু শুকনো প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের প্রশ্ন, ‘আদৌ কি দুর্দশা মিটবে?’ প্রার্থীরা অবশ্য নিজেদের পরিকল্পনা ও আশ্বাসের কথা শুনিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে।
এখনও ঠিক মতো গরম পড়েনি। তবু গ্রীষ্ম ঠিকমতো পড়তে না পড়তেই সুন্দরবনের আনাচ কানাচে এখনই পানীয় জলের সংকট দেখা দিতে শুরু করে দিয়েছে। গরম বাড়লে তা আরও প্রকট হবে বলে আশঙ্কা। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, মূলত মাটির তলার জলস্তর নেমে যাওয়ার কারণে সমস্যা তীব্র আকার নেয়। এই বিধানসভা এলাকার গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, ফি বছর জলসংকট দেখা দেওয়ার পর অবস্থা সামাল দিতে জলের গাড়ি পাঠায় প্রশাসন। তাতে কিছুটা সমস্যা মেটে ঠিকই। কিন্তু এটা তো আর কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। সমস্যার স্থায়ী প্রতিকারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, ‘গরমকালে জলের কষ্ট হয় এখানে, তা জানি। এবার জিতে এলে এই সমস্যা দূরীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেভাবে হোক বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেব।’ বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত বায়েনের বক্তব্য, ‘এখানে গরম পড়ার আগেই টিউবওয়েল খারাপ হয়ে যায়। মানুষ জলের জন্য হাহাকার করেন। আমরা ক্ষমতায় এলে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করব। কেন্দ্রীয় জলজীবন মিশনের মাধ্যমে জলকষ্ট দূর করা হবে।’ গোসাবার বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ‘প্রতি দ্বীপে একটি করে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করা হবে। পরিস্রুত পানীয় জল পাবেন গ্রামবাসীরা।’ গোসাবার এসইউসিআই প্রার্থী হরিপদ মণ্ডল বলেন, ‘জলের সমস্যা নিয়ে আমাদের আন্দোলন জারি আছে এবং থাকবে। ভোটে জিতে এলে বিষয়টি বিধানসভায় তুলব।’ নিজস্ব চিত্র