নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামকে আইএসএফ প্রার্থী করার পর বিড়ম্বনায় পড়েছিল আলিমুদ্দিন। প্রশ্ন উঠছিল, আরাবুলের প্রচারে কি সিপিএম নেতারা যাবেন? বৃহস্পতিবার যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, আরাবুলের প্রার্থী হওয়াকে সিপিএম মান্যতা দিচ্ছে না। সেই বার্তা আইএসএফকেও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপরে নৌশাদ সিদ্দিকী কী করবেন? তাহলে আসন সমঝোতা বলে কি আদৌ কিছু থাকবে? আইএসএফ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তর দেয়নি। এদিন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সেলিম। আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও আরাবুলকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পোকা ধরা, ঘুন ধরা কিছু পেলে সেগুলো আগে ফেলে দিই। এই বছর লিবারেশন ও আইএসএফ বামফ্রন্টের সহযোগী হিসাবে বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে সহমত হয়েছে। যাকে আমরা পরাস্ত করব, তাকেই বগলদাবা করব, তা সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না। সিপিএম, বামফ্রন্ট একে অনুমোদন দেয় না।’ এখানেই থেমে থাকেননি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে ঘর-অফিস জ্বালিয়েছে, মানুষ খুন করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে আইএসএফ কর্মীকেও খুন করেছে। বামফ্রন্ট ও আইএসএফের সমর্থক ও দরদি যারা কষ্ট করে দল গড়ে তুলছেন, তাঁদেরও বলছি। নির্বাচনের সময় এক দল থেকে অন্য দলে গেলে মানুষের লাভ হয় না। জঞ্জাল একটা জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলে শুদ্ধ হয়ে যায় না। তা আমরা জানিয়ে দিয়েছে। রাজনীতিতে নীতি নৈতিকতা বলেও প্রশ্ন আছে।’ এই বিষয়ে নৌশাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কারণ, তিনি প্রচারে ব্যস্ত। শুধু আরাবুল নয়, অন্য তৃণমূল নেতাদের আগমণের জন্য আইএসএফের অন্যান্য নেতারাও ক্ষুব্ধ। এক নেতার কথায়, নতুন লোক এসে ভালো আসন পেয়ে গেল। যাঁরা দীর্ঘদিন দল করছেন, তাঁদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হল।