হাইকোর্টের শর্ত উপেক্ষা করে হাওড়ায় রামনবমীর শোভাযাত্রা, ধর্মীয় স্লোগানের বদলে বিজেপি ও মোদির নামে জয়ধ্বনি
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাঁকরাইলে প্রাক-মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার রেশ কাটার আগেই বুধবার হাওড়ার জি টি রোডে রামনবমীর শোভাযাত্রা একইভাবে বিতর্ক এড়াতে পারল না। বরং আদালতের বেঁধে দেওয়া একাধিক নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল গোটা আয়োজন ও প্রশাসনিক তৎপরতা।
হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শোভাযাত্রা যাতে নিয়ন্ত্রিত ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সেকারণে এদিন নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখা হয়নি, এমনটাই দাবি করেছে প্রশাসন। জি টি রোডজুড়ে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ২০২৩ সালের অশান্তির অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে বহুতলের ছাদেও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই কড়াকড়ির প্রতিফলন খুব একটা চোখে পড়েনি। সকালে অঞ্জনীপুত্র সেনার উদ্যোগে প্রথম পর্বের শোভাযাত্রা সীমিত আকারেই সম্পন্ন হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মধ্য হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী বিপ্লব মণ্ডল। তবে বিকালের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বেলা ৩টে নাগাদ বি গার্ডেন গেট থেকে বজরং দলের ডাকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বের মিছিল দ্রুত ভিড়ে উপচে পড়ে। আদালতের নির্দেশ ছিল, সর্বাধিক ৫০০ জন, অথচ বাস্তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল কয়েক হাজার।
মিছিলের চরিত্র নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ধর্মীয় শোভাযাত্রা হলেও অংশগ্রহণকারীদের মুখে ধর্মীয় স্লোগানের বদলে বারবার শোনা গিয়েছে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির নামে জয়ধ্বনি। লাউড স্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেদার ডিজে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়, যা নির্দেশিকাকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে বলেই অভিযোগ। সময়সীমার ক্ষেত্রেও একই ছবি। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শোভাযাত্রা শেষ করার নির্দেশ থাকলেও শিবপুর থানার কাছে পৌঁছাতেই নির্ধারিত সময় প্রায় ফুরিয়ে যায় এবং হাওড়া ময়দান পৌঁছাতে সন্ধ্যা ৭টা বেজে যায়। ফলে একাধিক ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ব্যর্থতাও স্পষ্ট হয়েছে। যদিও হাওড়া পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীর দাবি, গোটা শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় মিছিলটি শেষ হতে খানিকটা বেশি সময় লেগেছে। হাইকোর্টের নির্দেশিকা কোথাও অমান্য করা হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হবে।’ সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ সমাপ্তির আড়ালে নিয়ম ভাঙার এই ধারাবাহিক চিত্রই এখন বড়ো প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে— আইনের কড়াকড়ি কি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ?