ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে এক কোটি খোয়ালেন জগাছার বৃদ্ধা
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে এক কোটি টাকা খোয়ালেন হাওড়ার জগাছার এক বৃদ্ধা। কেউ বা কারা তাঁকে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করায় তিনি প্রায় একসপ্তাহ বাড়ির বাইরে বের হননি। হাওলায় নাম জড়িয়েছে, এই অভিযোগে তাঁকে বিপুল পরিমাণ টাকা ট্রান্সফারে বাধ্য করেন জালিয়াতরা। তারপরে আরও টাকা দাবি করায় প্রতারকদের পাল্লায় পড়েছেন, আঁচ করে তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায়। অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে খবর, জগাছা থানা এলাকায় একটি অভিজাত আবাসনে থাকেন বৃদ্ধা বেলা হরভজনকা (৬৬)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ভিডিয়ো কল আসে। তিনি ফোনটি রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে খাঁকি পোশাক পরা এক ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে জানায়, বৃদ্ধার নাম জড়িয়েছে হাওলা লেনদেনে। সম্প্রতি মুম্বই বিমানবন্দরে একটি কনসাইনমেন্ট ধরা পড়েছে। তার তদন্ত করতে গিয়ে হাওলা লেনদেনের যোগ মিলেছে। বৃদ্ধার আধার কার্ড ব্যবহার করে গোটা লেনদেন হয়েছে। বৃদ্ধার কাছে আধার কার্ডের নম্বর জানতে চায় প্রতারকরা। তিনি ভয় পেয়ে আধার নম্বর জানালে প্রতারকরা বলে নম্বরটি মিলে গিয়েছে। হাওলা লেনদেনে জড়িত থাকায় তাঁকে আপাতত ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হল। প্রমাণ হিসাবে সে জাল ওয়ারেন্টের কপি পাঠায় বৃদ্ধাকে। সেইসঙ্গে জানানো হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর বাড়িতে সিবিআইয়ের টিম গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করবে। এভাবেই তাঁকে মানসিক চাপ দিতে থাকে অভিযুক্তরা। বৃদ্ধাকে বাড়ির বাইরে বেরতে নিষেধও করে তারা। তাদের কথামতো তিনি নিজেকে সপ্তাহখানেক গৃহবন্দি করে রাখেন। কারও সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করতেও বারণ করে তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিণতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও জানায় জালিয়াতরা। ভয়ে বৃদ্ধা বাড়ির কাউকেই বিষয়টি জানাননি। গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে কী করতে হবে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা বলে, টাকা দিলে তাঁকে আর গ্রেপ্তার করা হবে না। এই টাকা সিকিউরিটি মানি হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। এরজন্য একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাঠিয়ে প্রতারকরা জানায়, যে কোনো অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠালেই হবে। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি দফায় দফায় একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন। সব মিলিয়ে এক কোটি টাকা ট্রান্সফার করেন তিনি। তারপরেও তারা টাকা দাবি করায় সন্দেহ হয় বৃদ্ধার। প্রতারকদের পাল্লায় পড়েছেন বুঝে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। দেখা যায়, বৃদ্ধা গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াও গয়না বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন তাদের। প্রথমে তিনি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ করেন। তারপর ১৮ মার্চ হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বৃদ্ধার অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস সংগ্রহ করেছে। সেখান থেকে যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এগুলি সবই মিউল অ্যাকাউন্ট। এখান থেকে টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছে। মিউল অ্যাকাউন্টগুলি এই রাজ্যের। টাকা যেখানে ট্রান্সফার হয়েছে, সেগুলি ভিন রাজ্যের। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেই খোঁজ চলছে অভিযুক্তদের।