• অন্নপূর্ণা আরাধনায় মেতে উঠেছে বারাকপুর ও কল্যাণী
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও সংবাদদাতা, কল্যাণী: অন্নপূর্ণা পূজো উপলক্ষ্যে মেতে উঠেছে বারাকপুর শিল্পাঞ্চল। অন্নপূর্ণা মন্দিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড়। এছাড়া টিটাগড় থেকে কাঁচরাপাড়া পর্যন্ত অন্নপূর্ণা পূজোগুলিতে হাজির তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরা। এর পাশাপাশি কল্যাণীতেও অন্নপূর্ণা পুজো নিয়ে ছিল উন্মাদনা। এ-১১ খেলার মাঠে বাসন্তী অন্নপূর্ণা পুজো করে সম্প্রীতি সংগঠন। বৃহস্পতিবার, অষ্টমীতে সকাল থেকেই পুজো দিতে এবং মেলা ঘোরার ভিড়।

    বারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দিরের পুজো এ বছর ১৫১ বছরে পড়ল। সকাল থেকে মানুষ লাইন দিয়ে পুজো দেন। সকালে হয়েছে কুমারী পুজো। তারপর একান্ন কেজি গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে হয়েছে অন্নকুট উৎসব। দেবীকে চার রকমের অন্ন, পাঁচ রকমের ভাজা, মিষ্টি ও মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। তারপর লক্ষাধিক ভক্তকে ভোগ দেওয়া হয়েছে। ভিড়ের কারণে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। বারাকপুর মহকুমা সহ দূরদূরান্তের ভক্তরা পুজো দিতে আসেন। সন্ধ্যারতি দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন। অনেকে গঙ্গায় স্নান করে দণ্ডি কেটে মন্দিরে পুজো দেন। ১৮৭৫ সালে রানি রাসমণির কন্যা জগদম্বা দেবী এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ প্রতিষ্ঠার দিন সহ চারবার এসেছিলেন। তিনিই চিহ্নিত করেছিলেন জমি। একটি বেলগাছের নীচে বসে ধ্যান করেছিলেন তিনি। দীপপুজোও করেছিলেন। মন্দিরে একবার রাত্রিবাস করেন রামকৃষ্ণ। ঐতিহ্য মেনেই মন্দিরে পুজো হয় এখন। সারাবছরই পুজো দেওয়া যায়। এদিন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল বারাকপুর পুলিস। 

    অন্যদিকে কল্যাণীর অন্নপূর্ণা পুজো এবছর ১৬ বছরে পা দিয়েছে। এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ সাবেকি ঢঙে তৈরি প্রতিমা এবং চোখধাঁধানো আলো ও মণ্ডপসজ্জা। পুজো কমিটির সভাপতি মনোরঞ্জন ভদ্র বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় প্রতিবছর ঐতিহ্য বজায় রেখে সফলভাবে করা হয় পুজো।

    এর পাশাপাশি বারাকপুরে রামনবমী নিয়েও উৎসাহ ছিল। কাঁচরাপাড়ার ডাকাত কালীবাড়িতে রামনবমীর পুজোয় উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী। কাঁচরাপাড়ায় অন্য একটি রামনবমী পুজোয় অংশ নেন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কয়েকটি মিছিলও বেরয়। শুক্রবারও রয়েছে রামনবমী উপলক্ষ্যে একাধিক মিছিল। এই কারণে যান চলাচল স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা। ভাটপাড়ায় দু’টি বড়ো মিছিল হয়। যেখানে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। মিছিল ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)