নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হুলুস্থুল কাণ্ড সোনারপুরে। চিকিৎসারত মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের তাণ্ডবে বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কোদালিয়ায়। বুধবার রাতে কালিকাপুর এলাকায় এক যুবককে ইতস্তত ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। সন্দেহের বশে তাঁকে মারধর করে এলাকাবাসীরা। পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁকে এদিন ভোরে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে চম্পট দেন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন যুবক। তারপরই শুরু করেন তাণ্ডব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথারি ইট ছুড়তে শুরু করেন তিনি। পুলিশকর্মীরা তাঁকে ধরতে যান। কিন্তু, একছুটে ফের পালিয়ে যান যুবক। এরপর তিনি দৌড়ে রাস্তায় গিয়ে অটো থামিয়ে চালককে মারধর করে বলে অভিযোগ। রাস্তায় পড়ে থাকা একটি কাঠ দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় কাচ। ওই ভাঙা অটো চালিয়ে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তাতেও ঘটে বিপত্তি! রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা দুই পথচারীকে ধাক্কা মারেন তিনি। যুবককে ধরতে তখন রীতিমতো রাস্তার এপ্রান্ত থেকে অপ্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছে উর্দিধারীরা। কালঘাম ছুটে যায় পুলিশের। এলাকার মানুষও পিছু ধাওয়া করে তাঁকে ধরতে উদ্যোগী হন। কিছুক্ষণ বাদে অটো ফেলে একটি গ্যাস এজেন্সির গোডাউনে গিয়ে সিলিন্ডার ভরতি ট্রাক নিয়ে চালানোর চেষ্টাও করে ওই যুবক। পুলিশ এসে ওই যুবককে ট্রাক থেকে নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেখান থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই এলাকার মানুষ তাঁকে ধরে ফেলে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই যুবকের নাম রিয়াজউদ্দিন গাজি। তিনি মগরাহাটের বাসিন্দা। বহুদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ঘুরতে ঘুরতে কালিকাপুর চলে আসেন রিয়াজ। এদিন এই কাণ্ড ঘটার পর পুলিশ ওই যুবকের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। এরপরই সব কাগজপত্র দেখে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই যুবককে।