• প্রকল্পের ১.৫ হাজারে ইন্টারভিউয়ে তো যেতে পারবেন: অভিষেক
    এই সময় | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য বাজেটে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার। মার্চের প্রথম সপ্তাহে আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা পৌঁছতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী–সহ বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল জমানায় ‘যুবশ্রী’ চালু করেও টাকা দেওয়া হয়নি। ওই প্রকল্প তুলে দিয়ে ‘যুবসাথী’ চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পে টাকার অঙ্ক নিয়েও তির্যক মন্তব্য করেন বিজেপি নেতারা।

    এমন আবহেই বৃহস্পতিবার ধূপগুড়িতে নির্বাচনী সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাখ্যা করে জানালেন, এই প্রকল্পের টাকা যুবক–যুবতীদের কী ভাবে সাহায্য করতে পারে। জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি দিয়ে উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। পরে আলিপুরদুয়ারের কালচিনিতে রোড–শো করেন তিনি।

    ধূপগুড়ির সভায় তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা বলেন, ‘যুবসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে ১,৫০০ টাকায় কিছু হয় না। এই যে মোদী আন্ডার অ্যাজুডিকেশন করে (ভোটারদের) লাইনে দাঁড় করিয়েছেন, টোটো–অটোয় করে তার শুনানিতে যেতে এই টাকা খরচ করতে পারবেন। কোনও যুবক বা যুবতী (চাকরির) ইন্টারভিউ দিতে গেলে মা–বাবার কাছে হাত পাততে হবে না। ১৫০০ টাকায় এটাই হয়।’ এই প্রকল্পে আবেদনকারীরা টানা পাঁচ বছর মাসে দেড় হাজার টাকা পাবেন। অভিষেকের সহজ অঙ্ক, ‘মাসে ১,৫০০ মানে বছরে ১৮,০০০ টাকা। পাঁচ বছরে ৯০ হাজার টাকা। মোদী ৯ টাকা দি‍ন, তারপরে (বিজেপি নেতারা) কথা বলুন। কারও অ্যাকাউন্টে ১২ বছরে ৯ পয়সা ঢোকেনি, অথচ ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অাচ্ছে দিনের নামে শুধু ভাষণবাজি (মোদী) করেছিলেন!’

    এখনও নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেনি বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, ‘যুবসাথী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’–সহ মমতার বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রকল্পের পাল্টা কিছু জনমুখী প্রতিশ্রুতি সেখানে ঘোষণা করতে পারে গেরুয়া শিবির। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের নির্বাচনী সভায় এ দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা যুবসাথী করেছি বলে কিছু হিংসুটে পাগল বলবে, ওরা নাকি ২৫ হাজার টাকা দেবে। ওরা জানে না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে আমরা ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দিই। সেখানে রাজ্য সরকার ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি েদয়। সব আমরা করি। তৃণমূল না থাকলে কিছু পাবেন না।’

    ‘যুবসাথী’ প্রসঙ্গে মমতা–অভিষেকের মন্তব্য শুনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের প্রতিক্রিয়া, ‘পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছেন? রাজ্যের হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে কাজের জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে। তাঁরা চাকরি চাইছেন।’ যদিও পাণ্ডবেশ্বরে মমতা বলেছেন, ‘ডেউচা–পাঁচামিতে ১ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান শিল্পের গন্তব্য হয়ে উঠবে। বীরভূমে আরও কিছু শিল্প গড়ে তোলা হয়েছে।’

    অভিষেক আবার ধূপগুড়ি ও কালচিনি কেন্দ্রে কত যুবক–যুবতীর কাছে ‘যুবসাথী’র টাকা পৌঁছেছে, সেই পরিসংখ্যান দিয়েছেন। ধূপগুড়িতে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলকে যাঁরা গালি দিতেন, তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করেছেন। ধূপগুড়ি বিধানসভায় ১৮,৮২৮ জন মাসে দেড় হাজার পাচ্ছেন।’ কালচিনিতে প্রায় ১৭,০০০ যুবক–যুবতীর কাছে প্রকল্পের সুবিধে পৌঁছচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিটি জনসভাতেই বিধানসভা ধরে ধরে প্রকল্পে সুবিধেপ্রাপ্তদের তথ্য তুলে ধরছেন অভিষেক।

    ভোট ঘোষণার আগে ক্যাম্প করে ‘যুবসাথী’র আবেদনপত্র গৃহীত হয়েছিল। নবান্ন সূত্রে খবর, ১ কোটির কাছাকাছি অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে টাকা দেওয়া শুরু হলেও সমস্ত যোগ্য আবেদনকারী প্রথম দফায় টাকা পাননি। এ প্রসঙ্গে মমতা এ দিন বলেন, ‘যুবসাথী প্রকল্প সবাইকে (আবেদনকারী) দিচ্ছি। কিছু বাকি আছে। প্রসেস চলছে, সবাই পেয়ে যাবেন।’

  • Link to this news (এই সময়)