এই সময়: চতুর্থ দফায় আরও ৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। এই ৭ আসনেই লড়াই করবে ফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর কেন্দ্রে প্রার্থী অলোককুমার দাস। ওই জেলার রঘুনাথগঞ্জে প্রার্থী আবুল হাসনাত। নদিয়ার তিনটি আসন––নাকাশিপাড়ায় শুক্লা সাহা, রানাঘাট উত্তর–পশ্চিমে দেবাশিস চক্রবর্তী ও রানাঘাট উত্তর–পূর্বে প্রার্থী হয়েছেন মৃণাল বিশ্বাস। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা আসনে প্রার্থী সুব্রত পণ্ডা। বীরভূমের ময়ূরেশ্বরে প্রার্থী হয়েছেন জয়ন্ত ভাল্লা।
এরই মধ্যে ক্যানিং পূর্বে আইএসএফ–এর প্রার্থী আরাবুল ইসলামকে নিয়ে বাম নেতৃত্ব অস্বস্তিতে রয়েছেন। সিপিএম আরাবুলকে সমর্থন করবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বৃহস্পতিবার বলেন, ‘লিবারেশন এবং আইএসএফ বামফ্রন্টের শরিক নয়। কিন্তু বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে বামফ্রন্টের সহযোগী হিসেবে লড়াই করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাকে পরাস্ত করব তাকেই বগলদাবা করব—এটা সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না। সিপিএম এবং বামফ্রন্ট এটা অনুমোদন করে না। গত ১৫ বছর ধরে যারা ঘর, অফিস জ্বালিয়েছে, মানুষ খুন করেছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে আইএসএফ কর্মীকে খুন করেছে—সেখানে ভোটের সময়ে এক দল থেকে অন্য দলে গেলে মানুষের লাভ হয় না।’
সেলিম সরাসরি আরাবুলের নাম না নিয়েও স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই আইএসএফ প্রার্থীকে তাঁরা সমর্থন করছেন না। সেলিমের কথায়, ‘এটা কোনও ব্যক্তির বিষয় নয়, জঞ্জাল একটি ডাস্টবিন থেকে অন্য ডাস্টবিনে গেলে শুদ্ধ হয়ে যায় না। এখানে কোনও ওয়াশিং মেশিন নেই। এটা আমরা (আইএসএফ–কে) জানিয়ে দিয়েছে। বামফ্রন্টের সহযোগীদের বলছি, আপনারা রিসাইকেল বিন হবেন না।’ এই পরিস্থিতিতে সিপিএম ক্যানিং পূর্বে পৃথক প্রার্থী দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বিরূপ অবস্থানের কারণে আইএসএফ ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী বদল করবে, এমন কোনও ইঙ্গিতও নেই। ফলে আরাবুলকে কেন্দ্রে করে আইএসএফ এবং সিপিএমের মধ্যে ভোটের আগে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি আজ, শুক্রবার ভাঙড়ে একাধিক সভা করবেন। সেখানে তিনি কী বলেন—সে দিকে নজর থাকবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের।