• শুক্রে প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় লিস্ট, কবে কাজ শুরু ট্রাইব্যুনালের?
    এই সময় | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশের পরে ৭২ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কিন্তু রাজ্যে ‘বিচারাধীন’ প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া যে ১০ লক্ষের ভিত্তিতে প্রথম লিস্টে কাদের ভোটাধিকার রইল এবং কারা বাদ পড়লেন, তা এখনও পরিষ্কার হলো না। যেমন স্পষ্ট হলো না বাদ পড়া ভোটারদের যে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, সেই ট্রাইব্যুনাল কবে গঠিত হবে। এ নিয়ে জল্পনার মধ্যে আজ, শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার কথা। নিষ্পত্তি হওয়া ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের মধ্যে কত জনের নাম সেই তালিকায় থাকবে, সেটাও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিষ্কার নয়।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন পর্যন্ত ৩৬ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নথির নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে গড়ে ৩৫–৪০ শতাংশের মতো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হতে মাঝরাত গড়িয়ে গিয়েছিল। আজ যাতে তেমন সমস্যা না–হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিসের ব্যাখ্যা, কলকাতা হাইকোর্টের মারফত তালিকা আসার পরে পাঁচ–ছ’ঘণ্টা সময় নেয় নির্বাচন কমিশনের আইটি সেল। তারপর তা ওয়েবসাইটে ওঠে। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় পিডিএফে গোলমাল থাকায় এখনও বহু বুথে তা টাঙানো যায়নি। এ বার জুডিশিয়াল অফিসারদের ই–সাইন হওয়ার পরে যাতে দ্রুত দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা যায়, তার চেষ্টা চলছে।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের পরে যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ ২৩ মার্চ যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বাদ পড়ারা ৬ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন জানাতে পারবেন। একই ভাবে আজ যে তালিকা প্রকাশিত হবে, সেখানে যাঁরা বাদ পড়বেন, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন ১১ এপ্রিলের মধ্যে। কিন্তু ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তালিকা প্রকাশ করলেও ট্রাইব্যুনালের অফিস কোথায় হবে, কবে তারা কাজ শুরু করবে, সেই অফিসের কর্মী বা অন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নাম পর্যন্ত এখনও ঘোষিত হয়নি। তা হলে ভোট শুরুর আগে পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে যে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হতে থাকবে, সেখানে যাঁরা বাদ পড়বেন তাঁরা কি আদৌ এ বার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

    সিইও দপ্তরের বক্তব্য, তারা বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। সিইও মনোজ আগরওয়াল বৃহস্পতিবার জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য রাজ্যের তরফে চারটে লোকেশন বাছা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নিউ টাউনের জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি। সেখানে ট্রাইব্যুনালের ক’টি অফিস হতে পারে, তা আজ হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের খতিয়ে দেখার কথা। যদিও কমিশনের বক্তব্য, যাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ যাচ্ছে তাঁরা অনলাইনে আবেদন করে ফেলতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেই তারা এগুলি খতিয়ে দেখবে।

    এর মধ্যে এ দিন নাম বাদ পড়া নিয়ে ফের কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাণ্ডবেশ্বরের নির্বাচনী সভায় তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘এরা (বিজেপি) বলেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেবে। প্রথম পর্বে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে প্রতিদিন বিজেপির নাম ঢুকিয়েছে, অন্যদের নাম কেটেছে। সেখানে ৬০ লক্ষ। মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ হলো! বিজেপি পার্টি অফিস থেকে প্ল্যান করে এটা তৈরি করে দিয়েছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘সাহস থাকলে থাকলে সাংবাদিকদের কেন লিস্ট দিচ্ছে না, অ্যাজুডিকেশনে যাঁদের নাম রয়েছে? এই তালিকা কোনও পার্টিকে দেয়নি, কোনও প্রেসকে দেয়নি, বুথে, ব্লকে জেলায় টাঙায়নি। লুকিয়ে রেখেছে। ছুপা রুস্তম। শুনেছি ৪০ শতাংশ বাদ দিয়েছে, ৬০ শতাংশ নাম তুলেছে। ৬০ শতাংশ নাম যদি তুলে থাকে, তা আমাদের ক্রেডিট।’

  • Link to this news (এই সময়)