• CU–র দোরগোড়ায় পুজো, যাদবপুরে ক্যাম্পাসেই আলাদা ভাবে রামনবমী পালন ২ সংগঠনের
    এই সময় | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: এ বছর রামনবমীর পুজো পৌঁছে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজাতেও। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত কয়েক বছর ধরে রামনবমী পালন এবং রামনবমী পুজো হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এর বিরুদ্ধে এ দিন যাদবপুরের ক্যাম্পাসেই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদসভা হয়, তবে কোনও অশান্তি হয়নি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা পর্যন্ত রামনবমী পালন পৌঁছনো অবশ্য এ–ই প্রথম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে রামনবমী পালন ও শোভাযাত্রা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি দেননি। এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সদর ফটকের বাইরেই পুজোর আয়োজন করেন এবিভিপি–র কর্মী সমর্থকরা। ছুটির দিন হওয়ায় বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ ছিল। বন্ধ দরজার বাইরে মণ্ডপ নির্মাণ করে পুজো ও ভক্তদের মধ্যে ভোগ বিতরণ করা হয়।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘ছুটির দিন বলে ক্যাম্পাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। গেটের বাইরে কেউ পুজো করলে তাতে কর্তৃপক্ষের কিছু বলার নেই। তবে পুজোর সময়ে ক্যাম্পাসের বাইরে ভিড় থাকলেও কোনও অশান্তি বা উত্তেজনা হয়নি।’ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। সিইউ–ক্যাম্পাসে যাতে রামনবমী পালনের অনুমতি না–দেওয়া হয়, তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই।

    এর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রামনবমী পালন নিয়ে একাধিক বার গোলমাল, সংঘর্ষ হয়েছে। এ বার সে রকম অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে রামনবমী পালন কর্মসূচির উপর কড়া পুলিশি নজরদারি ছিল। তবে রামনবমী নিয়ে বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছিল সরগরম। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের কাছে টেকনোলজি ভবনের সামনে রামনবমীর দু’টি পৃথক পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। একটির উদ্যোক্তা ছিল এবিভিপি এবং অন্যটির আয়োজক আর একটি দক্ষিণপন্থী ছাত্র সংগঠন ন্যাশনালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্ট (এনএসএফ)। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে রামনবমীর পুজোর জন্য সরাসরি কোনও অনুমতি দেননি, আবার স্পষ্ট ভাবে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেননি। এই ধোঁয়াশার মধ্যেই এ দিন সকালে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। এনএসএফ-এর তরফে আদিত্য পোল্লে বলেন, ‘পুজো ও ভোগ বিতরণ শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক জন ছাত্র বিক্ষোভ দেখালেও আমাদের কর্মসূচিতে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের পর্যবেক্ষণ— এবিভিপি–র কর্মসূচিতে বহিরাগতরা থাকলেও এনএসএফ-এর পুজোয় মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই যুক্ত ছিলেন।

    এ ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসে রামনবমী পুজোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ৪ নম্বর গেটের সামনে এ দিন জড়ো হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, রামনবমীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও হিংসার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। ওই প্রতিবাদী ছাত্ররা টেকনোলজি ভবনের কাছে একটি পথসভা বা স্ট্রিট কর্নারও করেন। সেখানে রামনবমীর আবহে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয়। দিনভর স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান শোনা যায় ক্যাম্পাসে। উত্তেজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সক্রিয়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচুর সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও প্রাক্তন সেনাকর্মী মোতায়েন করা হয়। পুলিশকেও বিষয়টি আগাম জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ছুটির দিনেও ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিকেলের পরে যাদবপুরে স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।

  • Link to this news (এই সময়)