পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের (War in West Asia) জেরে ভারতের তেলের বাজারে হাহাকার। চড়চড় করে দাম বাড়ছে LPG সিলিন্ডারের। শুধু তাই নয়, বুকিংয়ের পরেও গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ অনেকের। এর মধ্যেই শুক্রবার ভোরে প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন LPG নিয়ে গুজরাটের (Gujarat) বন্দরে নোঙর ফেলল ‘জগ বসন্ত’।
কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, ‘জগ বসন্ত’ জাহাজে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। কুয়েত থেকে তারা LPG বোঝাই করে গত সোমবার হরমুজ় প্রণালী পার হয়েছিল। এ দিন ভোরে জাহাজটি গুজরাটের কান্দলা বন্দরে পৌঁছেছে। অন্য দিকে, ‘পাইন গ্যাস’ নামে আরও একটি জাহাজ LPG নিয়ে আগামী দু’দিনের ভারতে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহে হরমুজ় (Strait of Hormuz) থেকে LPG নিয়ে ভারতে পৌঁছয় ‘শিবালিক’ আর ‘নন্দা দেবী’। গত ১৬ মার্চ গুজরাটের (Gujarat) মুন্দ্রা বন্দরে নোঙর ফেলে ‘শিবালিক’। ৪৫ হাজার মেট্রিক টন LPG ছিল তাতে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছয় ‘নন্দা দেবী’-ও।
এখনও পর্যন্ত জ্বালানির ৮০ শতাংশই আমদানি করে ভারত। ৫০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস, ৬০ শতাংশ LPG আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। বিশেষ করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিই তার প্রধান উৎস। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তবে রাশিয়া থেকে এখনও পর্যন্ত তেল আমদানি বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি। ফলে পেট্রল, ডিজেলে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার প্রথম তেল এবং গ্যাসের মজুত নিয়ে মুখ খুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশে ৮ লক্ষ মেট্রিক টন LPG মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অনায়াসে এক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। আরও ৮০০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। আর অপরিশোধিত তেলের মজ়ুত রয়েছে ৬০ দিনের।