এই সময়: গ্যাসের সঙ্কট শহর ও শহরতলির অটো সার্ভিসে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। বিভিন্ন রুটে দিনে দিনে কমছে অটোর সংখ্যা। অফিস–স্কুল–কলেজ যেতে কালঘাম ছুটছে যাত্রীদের। পরিস্থিতি এমন যে বেশি ভাড়া দিয়েও অনেক সময় অটো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হাতে সময় নিয়ে বেরোতে হচ্ছে।
এমনিতেই সব পেট্রল পাম্পে অটো এলপিজি পাওয়া যায় না। ফলে সারা বছরই গ্যাস ভরতে নির্দিষ্ট পাম্পে যেতে হয় অটো চালকদের। সেই সব পাম্পেও এখন গ্যাসের টানাটানি বলে জানাচ্ছেন চালকরা। এই পরিস্থিতিতে আর কতদিন এ ভাবে অটো চালিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়ে ঘোর সংশয়ে রয়েছেন চালকদের একাংশ। কেউ পার্ক সার্কাস থেকে অটো নিয়ে গ্যাস ভরতে যাচ্ছেন বজবজে। কেউ আবার বারুইপুর থেকে বালিগঞ্জে আসছেন। যেখানে তুলনামূলক ভিড় কম, সেখানেই ছুটছেন চালকরা। নিউ টাউন, সল্টলেক, দমদম রুটের অটো চালকরাও একই পথ নিয়েছেন। তাতে ভোগান্তি অবশ্য কমেনি।
যাদবপুর–রানিকুঠি রুটের অটো চালক রিন্টু সরকার বললেন, ‘নেতাজিনগরের গাছতলার পেট্রল পাম্পে দশ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস ভরেছি।’ গড়িয়া–গড়িয়াহাট রুটের অটো চালক সোমেন মণ্ডল বললেন, ‘সাউথ সিটি লাগোয়া পেট্রল পাম্পে সন্ধে ছ’টায় লাইন দিয়ে গ্যাস পেয়েছি রাত তিনটেয়।’ উল্লেখ্য, গড়িয়ার মহামায়াতলা পেট্রল পাম্পে দিন কয়েক আগে গ্যাস ফুরিয়ে গিয়েছে শুনে অটো চালকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।
এ সবের জেরে বিভিন্ন রুটে কমছে অটো। বিপদ বাড়ছে যাত্রীদের। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গডি়য়া–বারুইপুর, গড়িয়া– সোনারপুর রুটে অটো পেতে খুব সমস্যা হচ্ছে। দমদমের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত যাদবপুরের লোটাস পার্কের বাসিন্দা দেবেশ রায় বললেন, ‘অটোর সমস্যায় অফিস যেতে হাতে সময় নিয়ে বেরোতে হচ্ছে।’ একই অভিজ্ঞতা মানিকতলার বাসিন্দা কিংশুক সোমের। তাঁর কথায়, ‘গিরীশ পার্ক মেট্রো স্টেশনে পৌঁছতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। স্ট্যান্ডে দীর্ঘ অপেক্ষার পরে অটো পাচ্ছি।’
অনেক কষ্ট করে পাওয়া গ্যাস বাঁচাতে অনেক চালক আবার অটো চালানোর সময় কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকে গাড়ি চালানোর খরচা উঠে গেলেই ফিরে যাচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গড়িয়া–আনোয়ার শাহ রোড রুটে। এই রুটের প্রায় ৩০ শতাংশ গাড়ি ব্যাটারিতে চলে। জ্বালানির সঙ্কটে এরাই এখন ভরসা।