• মা-হারা শিশুর অন্নপ্রাশনে মানবতার দৃষ্টান্ত, কী ঘটল?
    আজকাল | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মা-হারা এক শিশুকে ঘিরে মানবতার এক অনন্য নজির গড়লেন বৃহন্নলারা। শুধু অন্নপ্রাশন নয়, ধুমধাম অনুষ্ঠানেরআয়োজন করে প্রায় ৫০০ মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন তাঁরা। সেই সঙ্গে শিশুটির ভবিষ্যতের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা। এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে।

    জানা গিয়েছে, ছোট্ট শিবম দে-র জন্ম গত বছরের অক্টোবরে গঙ্গারামপুরের একটি নার্সিংহোমে। জন্মের পরই চরম দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। শিবমের মা মামণি মহন্ত দে নার্সিংহোম থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন। এরপর সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবার। শিবমের দিদা মিনু মহন্ত তাকে নিয়ে আসেন বালুরঘাটে এবং নিজের কাছেই রাখেন।

    মিনু মহন্ত স্থানীয় এক বৃহন্নলা পরিবারের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। সেখানেই শিবমের কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন বৃহন্নলারা। ধীরে ধীরে শিশুটির দায়িত্ব নিজেরাই তুলে নেন তাঁরা। দিনভর শিবম থাকে তাঁদের কাছেই। স্নান, খাওয়া, যত্ন সবই করেন ‘মাসি’রা। রাতে দিদার সঙ্গে বাড়ি ফিরলেও দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে বৃহন্নলাদের সঙ্গেই। নিজেদের সন্তানের মতোই তাকে বড় করে তুলছেন তাঁরা।

    এই আবেগের বন্ধন থেকেই চলতি সপ্তাহের সোমবার আয়োজন করা হয় শিবমের অন্নপ্রাশন। সকালেই শিশুটিকে স্নান করিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বালুরঘাটের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বুড়াকালী মন্দিরে। সেখানে পুজো দেওয়ার পর সৃজনী সংঘের মাঠে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃহন্নলারা উপস্থিত হন। নাচ-গান, আনন্দ আর উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

    খাবারের ব্যবস্থাও ছিল চমকপ্রদ। দু’ধরনের মাছ, মাংস, দই, মিষ্টি সব মিলিয়ে জমজমাট ভোজের আয়োজন করা হয়। প্রায় ৫০০ মানুষ পাত পেড়ে সেই ভোজে অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বৃহন্নলাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

    শিবমের দিদা মিনু মহন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এইভাবে নাতির অন্নপ্রাশন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ওর মা চলে যাওয়ার পর সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। যেভাবে ওঁরা ছেলেটার দেখভাল করছেন, আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

    বৃহন্নলাদের গুরু মা পারুল ‘মাসি’ জানান, “ছেলেটার মা নেই, তাই ওর প্রতি আমাদের আলাদা টান। আমরা শুধু সাহায্য নিই না, ফিরিয়েও দিতে জানি। সমাজ আমাদের যেভাবেই দেখুক, আমরাও মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”

    মানবিকতার এই উজ্জ্বল উদাহরণ শুধু একটি শিশুর জীবনই বদলে দিচ্ছে না, সমাজের প্রচলিত ধারণাকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

     
  • Link to this news (আজকাল)