এই সময়, আলিপুরদুয়ার ও ধূপগুড়ি: জয়গাঁয় পুরসভা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কালচিনি বিধানসভার দলীয় প্রার্থী বীরেন্দ্র বড়া ওরাওঁয়ের সমর্থনে জয়গাঁয় এক রোড শোয়ের পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলার সীমান্ত শহর জয়গাঁকে পুরসভায় উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সঙ্গে জেলার কালচিনিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল তৈরিরও আশ্বাস দেন।
এ দিন বিকেলে জয়গাঁর গোপী মোহন থেকে শুরু হয় অভিষেকের রোড শো। শেষ হয় ফুন্টসোলিং লাগোয়া ভুটান গেট চত্বরে। তিনি বলেন, 'নানা জনজাতির আবাস শহর জয়গাঁবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে শহরকে পুরসভার মর্যাদা দিতে আমরা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তবে কিছু পাওয়ার বিনিময়ে তো কিছু দিতেও হয়। আপনারা পাঁচ বছর পিছিয়ে গিয়েছেন। আর সে পথে না হেঁটে এ বার জোড়া ফুলের প্রার্থী বীরেন্দ্রকে জেতান। আমি কথা দিচ্ছি আমরাও আপনাদের দাবিকে মর্যাদা দেব।' কালচিনির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারি ফের এ দিন অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন।
এর আগে ধূপগুড়িতে এক জনসভায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, 'আমরা ফের ক্ষমতায় এলে ছ'মাসের মধ্যে জল সমস্যার সমাধান করব। ফের পুরসভার নির্বাচন হবে।' এ দিকে সভায় নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্জয় কুজুরকে বক্তব্য শেষ করতে না দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে ভাষণের মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের আবেগকে সামনে এনে তৃণমূলকে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিজেপি। নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পুনা ভেংড়া বলেন, 'তৃণমূল কখনওই আদিবাসী সমাজকে যথাযথ সম্মান দেয় না। এর আগেও রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অভিযোগ উঠেছিল। এ বার নিজেদের দলীয় তফসিলি জনজাতি প্রার্থীকে মঞ্চে বক্তব্য রাখতে না দেওয়া সেই মনোভাবকেই প্রমাণ করে। এর জবাব ভোটেই দেবে আদিবাসী সমাজ।'
যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মহুয়া গোপ বলেন, 'বিষয়টা তেমন কিছু নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার এসে যাওয়ায় সময় কমে যায়। সেই কারণে সঞ্জয় কুজুরকে বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়। এর মধ্যে অন্য কোনও অর্থ খোঁজার কোনও মানে নেই।'