ভোটকর্মীদের ট্রেনিং সেন্টারে দেখানো হচ্ছিল সরকারি বিজ্ঞাপন। অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সরব হতেই বেধড়ক মারধর করা হলো কমিশনের এক কর্মীকে। শুক্রবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনা নদিয়ার রানাঘাট ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে। এই ঘটনার পরে ট্রেনিংয়ে আসা সমস্ত ভোট কর্মীরা ট্রেনিং বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বলে খবর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়। ভোট কর্মীকে মারধরের বিষয়ে নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিন ওই স্কুলে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট কর্মীদের ট্রেনিং ছিল। ট্রেনিং শুরুর আগেই প্রজেক্টরে ভেসে ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর জগন্নাথ মন্দিরের সরকারি বিজ্ঞাপন। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন ট্রেনিংয়ে আসা ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরেও কেন সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে সরব হন তিনি। আরও কয়েকজন সহকর্মী এই প্রতিবাদে শামিল হন।
বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট এক নম্বর বিডিও অফিসের কর্মীদের বচসা শুরু হয়। ভোটকর্মী সৈকতের অভিযোগ, তাঁকে বিডিও অফিসের কয়েকজন কর্মী মারধর করেন। তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি বলেছিলাম, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছেন কেন? প্রতিবাদ করতে মারধর করা হয়। যদি ভোট কর্মীদের উপরে এরকম আক্রমণ নেমে আসে নির্বাচনের সময় তা হলে কী হতে পারে? তাদের নিরাপত্তা কোথায়?
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘একজন ভোটকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। এর পরেও নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে, এই সরকারকে গদিতে রেখে সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন করবে, সেটা সম্ভব নয়।’ কমিশনকে এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।