• বাবার অপমানের প্রতিশোধ নিতে রাজনীতিতে, তৃণমূলের বাজি রঞ্জন, মান ভেঙে মনোরঞ্জন কি পাশে থাকছেন?
    এই সময় | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ‘মানুষ হতে চাইলে লেখাপড়া কর, না হলে মাঠে কাজ করতে যা।’ একরাশ অভিমান নিয়ে ছেলেকে নির্দেশ দেন বাবা। কথাটা মনে গেঁথে যায় রঞ্জনের। বর্তমানে তিনি শিক্ষক। পড়ুয়াদের মানুষ করার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তবে শিক্ষকতার পাশপাশি ৩৬ বছর ধরে হাত পাকিয়েছেন রাজনীতিতেও। হার-জিতের গ্রাফটা লম্বা। তবে সরে আসেননি। ছাত্র পরিষদ, কংগ্রেস ঘরানায় কেটেছে রাজনৈতিক যৌবন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদের পরে এ বার জীবনে প্রথম বিধানসভার লড়াই। জিততে হবে বলাগড়। জিতবেন কি? তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধাড়া বলছেন, ‘আমি ২০০ শতাংশ আশাবাদী।’

    কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনে রাজনীতিতে হাতেখড়ি রঞ্জনের। ১৯৯০ সালে জাতীয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের নেতা হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ। ১৯৯৩ সালে পোলবা পঞ্চায়েত সমিতির কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের পোলবা পঞ্চায়েতের জয়ী হয়ে বিরোধী দলনেতা হন রঞ্জন। ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পোলবা দাদপুর ব্লকের এসসি-এসটি-ওবিসি সেলের সভাপতি হয়ে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। মাঝে একবার তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে গ্রাম সভায় ভোটে লড়ে হেরেছিলেন। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত সমিতিতেও হারতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৩ সালের পর থেকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ঘটে আমূল পরিবর্তন। ২০১৩ থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ২০২৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি হন।

    আশির দশক। ভরা বাম জমানা। রঞ্জনের তখন ছাত্রজীবন। বাবা সতীশ চন্দ্র ধাড়া ব্যান্ডেল বিটিপিএস-এ চাকরি করতেন। কোম্পানি থেকে ইংরেজিতে লেখা একটি চিঠি আসে। ইংরেজি জানতে না বলে ছুটে গিয়েছিলেন সিপিএমের তৎকালীন এক নেতার কাছে। রঞ্জন বলেন, ‘আমার বাবাকে ওই নেতা অপমান করে বলেছিলেন, এ সব ইংরেজি তোদের জন্য নয় , তোরা ছোট জাত।’ শিক্ষকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেছিলেন বাবা। বাড়ির বড় ছেলে রঞ্জনকে বাবা বলেন, ‘যদি মানুষের মতো মানুষ হবি তাহলে পড়াশোনা কর। না হলে আজকে থেকে পড়াশোনায় ইতি করে মাঠের কাজে লাগ।’ রঞ্জন প্রতিজ্ঞা করে নিয়েছিলেন সেই দিনই। পড়াশোনায় মন দেন। ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার জন্য রাজনীতিতেও নামেন। সিপিএমকে হারানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে শুরু করেন রাজনৈতিক জীবন।

    ‘বলাগড়ের মাটি আমি চিনি। এখানকার মানুষ দু’হাত তুলে আমায় আশীর্বাদ করছে। মানুষ সাম্প্রদায়িক দলকে জেতাতে চায় না।’

    তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন ধাড়া

    এমন প্রশ্ন হেসেই উড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। রঞ্জন বলেন, ‘আমাদের এখানে বিজেপির মধ্যেই একাধিক গোষ্ঠী আছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। সিপিএম এখানে কিছু নেই।’ জেতার ব্যাপারেও নিশ্চিত তিনি। তাঁর দাবি, ‘বলাগড়ের মাটি আমি চিনি। এখানকার মানুষ দু’হাত তুলে আমায় আশীর্বাদ করছে। মানুষ সাম্প্রদায়িক দলকে জেতাতে চায় না। যারা বাংলার ভাষা-সংস্কৃতি বোঝে না, তাদের ভোট দিয়ে মানুষ নিজের ভোট নষ্ট করবে না।’

    ২০১১ সাল থেকে দু’বারের জয়ী বিধায়ক অসীমকুমার মাজিকে সরিয়ে ২০২১-এ প্রার্থী করা হয় বিশিষ্ট লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে। নানা বিতর্কের পরে এ বার তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। মনোরঞ্জন বলছেন, ‘আমি এখন কিছু দেখছি না। চোখ বন্ধ করে আছি।’ প্রচারে কি যাবেন? মনোরঞ্জের কথায়, ‘আমার শরীর এখন ভালো নেই। তাই ঘরে আছি।’

    এই কেন্দ্র থেকে পর পর দু’বার (২০১৬ ও ২০২১-এর নির্বাচন) বিজেপি দাঁড় করিয়েছিল সুভাষচন্দ্র হালদারকে। দু’বারই পরাজিত হয়েছেন। এ বার বলাগড় কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকার। তাঁর কথায়, ‘বিজেপির কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পার্টি। কে জিতবে, সেটা বলাগড়ের মানুষ ঠিক জবাব দিয়ে দেবেন।’

    রিপোর্টিং: সুজয় মুখোপাধ্যায়

  • Link to this news (এই সময়)