গরম আসছে। রামের বোতল সরিয়ে রেখে সুরীপ্রেমীদের ঠান্ডা বিয়ারে চুমুক দেওয়ার দিন। কিন্তু আসন্ন গ্রীষ্মে বিয়ারের বোতলে চুমুক দিতে গেলে, আপনার বিয়ারের বোতলে এসে পড়তে পারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। হয়তো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়বে না বোতলে, তবে পকেটে আগুন ধরতে পারে সুরাপ্রেমীদের পকেটে।
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধ একমাসে পড়তে চলেছে। এই ৩০ দিনে যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যে দাম বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো বিভিন্ন পণ্যে। এ বার সেই যুদ্ধের আঁচ সরাসরি পড়তে চলেছে মদের বাজারে। ভারতের বাজারে প্লাস্টিক, প্রসাধন সামগ্রীর পাশাপাশি এ বার বিয়ারের দাম বৃদ্ধিরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার অর্ধেক এবং LPG চাহিদার বড় অংশ আমদানি করে কাতার ও সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। এই চালান আসে হরমুজ় প্রণালী হয়েই। হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব এক মাসের যুদ্ধের মধ্যে সকলেই জেনে গিয়েছেন।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। আর বিয়ার যে কাচের বোতলে ভরা হয়, সেই বোতল তৈরির কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে লাগে LPG। চুল্লি চালানোর গ্যাস না মেলায় কাচের বোতলের দাম একধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।
মদ উৎপাদনকারীদের সংগঠন, ‘দ্য ব্রুিউয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (BAI)-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সঙ্কটের কারণে অনেক কাচের বোতল তৈরির কারখানা তাদের কাজকর্ম আংশিক ভাবে বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
যুক্তি দিতে পারেন, কাচের বোতল মিলছে না তো কী হয়েছে? ক্যান খুলে চুমুক লাগাব। সেই গুড়েও বালি। হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় লজিস্টিক্স ব্যাহত। তাই বিয়ারের ক্যান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম এবং কার্টন, লেবেলের মতো প্যাকেজিং সামগ্রীর দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে বিয়ারের দাম বাড়ার।
গ্রীষ্মকালে দেশে বিয়ারের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে BAI-এর ডিরেক্টর জেনারেল বিনোদ গিরি জানিয়েছেন, উৎপাদনের খরচ এতটাই বেড়েছে যে বহু সংস্থার পক্ষে ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তাঁরা রাজ্যগুলির কাছে বিয়ারের দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির আবেদন করছেন।
‘গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চ’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের মদের বাজার ছিল ৭.৮ বিলিয়ন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৩,৮০০ কোটি টাকা)। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজার বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধির এই সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দিতে চলেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কাজেই গরম আরও বাড়লে ঠান্ডা বিয়ারের বোতলে কিংবা ক্যানে চুমুক লাগাতে গেলে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচে পুড়বে আপনার পকেট।