• কমল পেট্রল-ডিজেলের শুল্ক, সাধারণের পকেটে কি স্বস্তি আসবে?
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: ৪ সপ্তাহের দোরগোড়ায় ইরান আমেরিকা সংঘর্ষ। আর তার জেরেই তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এই সংঘর্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলর দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। এই চাপ সামাল দিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল। পেট্রলের উপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রতি লিটারে ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হল। একইভাবে, ডিজেলের ক্ষেত্রে এই শুল্ক ১০ টাকা থেকে সম্পূর্ণ তুলে নিয়ে শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। 

    এদিকে, কেন্দ্র সরকার অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল এর উপর নতুন করে প্রতি লিটারে ৫০ টাকা শুল্ক আরোপ করেছে, যা বিমান পরিষেবার খরচ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা। শুধু তাই নয়, জ্বালানি তেলের রপ্তানি নিয়েও কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশ যেমন বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ভুটানকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের তেলের মজুত রয়েছে এবং রান্নার গ্যাসও অতিরিক্ত প্রায় ৩০ দিন ব্যবহারের মতো সংরক্ষিত আছে। ফলে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, তাহলে দুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী কয়েক দফায় কেন বললেন যে, করোনাকালের মতো সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে?
  • Link to this news (বর্তমান)